মোরেলগঞ্জে জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাবেক ৪ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও ২ অডিটর বরখাস্ত
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) হিসাবে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তে প্রায় ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য পাওয়ার পর সাবেক চার উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জে কর্মরত কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ গ্রহণের সময় নিজেদের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে অস্বাভাবিক গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জিপিএফ হিসাবের লেনদেন যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী এ বিষয়ে খুলনা ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানান। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যাচাই কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে সাবেক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জিপিএফের বিভিন্ন অগ্রিম বিল এবং অডিট কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এর ভিত্তিতেই ছয়জনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশ জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারার উপধারা-১ অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেনÑমীর এনামুল হক, সৌমেন সরকার, মদন কুমার দাস, হাসানুজ্জামান, অডিটর শ্যামল কুমার দাস ও রুবেল মোল্লা।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মীর এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৫২টি জিপিএফ অগ্রিম বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সৌমেন সরকারের বিরুদ্ধে তিনটি বিলের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, মদন কুমার দাসের বিরুদ্ধে পাঁচটি বিলের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা এবং হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি বিলের মাধ্যমে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া অডিটর শ্যামল কুমার দাসের বিরুদ্ধে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং রুবেল মোল্লার বিরুদ্ধে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে মীর এনামুল হক বর্তমানে রামপাল, সৌমেন সরকার তেরখাদা, মদন কুমার দাস বাগেরহাটের ডিএএফও কার্যালয় এবং হাসানুজ্জামান খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। অডিটর শ্যামল কুমার দাস মোংলা এবং রুবেল মোল্লা শরণখোলায় কর্মরত ছিলেন।
জিপিএফের অর্থের লেনদেন নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁদের অজ্ঞাতসারে হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা বিল তৈরি করা হয়েছে। ঋণের প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তাঁদের নজরেই আসেনি বলে তাঁরা জানান।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর জিপিএফ হিসাব যাচাই করতে গিয়ে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থের গরমিলের ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্তের সময়ে অভিযুক্তরা প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



