জাতীয় সংবাদ

উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্যের সাথে লংমার্চ সফল করব : গোলাম পরওয়ার

প্রবাহ রিপোর্ট : উসকানিতে পা না দিয়ে চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের রুটে থাকা সব জেলা ও মহানগর শাখায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর সকাল ৮টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর রওনা হবে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গত রাতে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।
লংমার্চে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। তার ভাষ্য, পথে কোটি কোটি মানুষ লংমার্চকে অভিবাদন জানাতে প্রস্তুত। নারীরাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাবেন বলে তারা খবর পেয়েছেন। লংমার্চের গাড়িবহরে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি। গাড়িগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও ঠিক করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আগে ছয় দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করা হয়েছিল। এখন এর সঙ্গে আরো একটি দাবি যুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে উত্তরবঙ্গ অভিমুখী লংমার্চ এবং ওই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের দাবির কথা বিবেচনায় নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কোনো দ্বিধা বা ভয় থাকলে তা অবিলম্বে দূর করার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।
তার মতে, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার ওপর জোর দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের কাছে তাদের আবেদন, কর্মসূচিতে যেন কোনো ধরনের বাধা বা অন্তরায় সৃষ্টি করা না হয়।
লংমার্চে থাকা নেতা-কর্মীদেরও তিনি কারো উসকানিতে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আমরা সফল করব।’
কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করলেও বা গায়ে আঘাত লাগলেও প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে লংমার্চ সফল করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এ জন্য সরকার, বিএনপি, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক বিভাগ, রাস্তার দুই পাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারী এবং যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতা চান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, দেশ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে মানুষ সাময়িক কষ্ট ও দুর্ভোগ মেনে নিয়েছে। এবারও লংমার্চ সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভিন্ন মিডিয়া হাউস থেকে সাংবাদিকেরা লংমার্চের গাড়িবহরের সঙ্গে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করবেন। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। গণমাধ্যমের গাড়িগুলোকে বিনা বাধায় চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী আগের লংমার্চে দেশবাসী ও গণমাধ্যমের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা ও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার। এর আগে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
সবশেষে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে দেশবাসী ও ১১ দলের নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।
উল্লেখ্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button