জাতীয় সংবাদ

১৪ কোটি টাকা গ্যাস বিল বাকি : সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সিরাজগঞ্জে বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এম এ মতিন কটন মিলসের প্রায় ১৪ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিপাকে পড়েছেন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির (পিজিসিএল) কর্মকর্তারা। পিজিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখেন মিলটির শত শত শ্রমিক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার শিয়ালকোলে বিসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিলের নগদায়ন চেক পাওয়ার পর আবার গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম এ মতিন কটন মিলের গ্যাস বিল বাকি থাকায় সোমবার সকালে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানীর ভিজিলেন্স বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর মিলের শত শত শ্রমিক বাইরে বের হয়ে আসেন। তারা পিজিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বকেয়া পরিশোধের চেক দেওয়ায় আবার গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শান্ত হন। এম এ মতিন কটন মিলের এক শ্রমিক বলেন, হঠাৎ করেই গ্যাসের লোকজন এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আমরা মিলের শ্রমিকরা একটু বিক্ষোভ করেছি। আমাদের বিক্ষোভের কারণেই তারা লাইন সংযোগ দেন। এম এ মতিন কটন মিলের ব্যবস্থাপক (স্টোর) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি স্পিনিং মিল, এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা তুলা থেকে সুতা উৎপন্ন করা হয়। আমরা গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে মেশিন চালাই। দেশের চলমান সংকটে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে গেছে। আমরাও কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। সে কারণে আমাদের দুই-তিনটি গ্যাস বিল বাকি রয়েছে। তবে তার থেকে বেশি আমাদের জামানত রয়েছে। এ অবস্থায় গ্যাস কোম্পানির লোকজন মেইনটেনেন্সের কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা জানার পর বিক্ষুব্ধ হন। তবে শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। পরে পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। আলোচনা করে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভিজিলেন্স বিভাগ) মো. আমিনুর রহমান খান বলেন, ওনাদের ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকারও বেশি বিল বাকি থাকায় লাইন কাটার অনুমোদন পেয়ে এখানে আসি। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। ফ্যাক্টরির লোকজনও একটা অবস্থান তৈরি করে। পরে ম্যানেজমেন্ট ও থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে ওনারা একটি নগদায়ন চেক দেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংযোগটা চালু রেখে চলে যাই। সদর থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা কথা বলে সংযোগ চালু করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button