স্থানীয় সংবাদ

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অনন্য সাফল্য অর্জনে খুবির ৯ উদ্ভাবনী দলকে সংবর্ধনা

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ বিজয়ী হয়ে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী এ ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ ফেয়ারে তিনটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে বিজয়ী হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এই পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম। এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারী নয়টি উদ্ভাবনী দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্পসহ অংশগ্রহণকারী নয়টি উদ্ভাবনী দলের টিম লিডারদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। এসময় উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে বিজয়ী হওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার স্বীকৃতি মিলেছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও নিজেদের স্বতন্ত্রভাবে তুলে ধরতে হবে। এজন্য তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে আরও বিকশিত করতে হবে।
তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলো খুঁজে বের করা, সেগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রযুক্তিকে চিহ্নিত করে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া গেলে এগুলো দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। উপাচার্য আরও বলেন, ইনোভেশন ফেয়ারে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্পসহ সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলোর পেটেন্ট নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব উদ্ভাবনকে আরও উন্নত, ব্যবহারোপযোগী ও প্রয়োজনে বাণিজ্যিকীকরণের উপযোগী করে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। এ কৃতিত্ব অর্জনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন হাবের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান বলেন, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত। তাদের সাফল্যের মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ। গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বর্তমান সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের উদ্ভাবন বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ সালাউদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন হাবের পরিচালক প্রফেসর ড. জিএম আতিকুর রহমান। এছাড়া সংবর্ধিত প্রকল্পগুলোর প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সংবর্ধিত দলগুলো হলো স্মার্ট হুইলচেয়ার, নিও সেভার, এআই-বেজড ক্যাম্পাস সিকিউরিটি, ব্লিস সিহাত, হাই ভোল্টেজ এনার্জি-এফিশিয়েন্ট থ্রিডি প্রিন্টার, ইকোলিংক, এআই-পাওয়ার্ড ইসিজি স্ক্রিনিং ডিভাইস, ট্রু-সাইট ও আরবান আর্থ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের রিসার্চ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন তুহিন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক এবং সংবর্ধিত দলগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button