স্থানীয় সংবাদ

পুলিশের নাকের ডগায় বসে চলছে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন : থেমে নেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমও!

# দৌলতপুর থানা এলাকা #
# অবাধে যত্রতত্র মিলছে মাদকদ্রব্য, ঘটছে প্রকাশ্যে খুনের ঘটনাও #
# পাট শ্রমিক হত্যাকা-ের ১১ দিনেও অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেপ্তার নেই #
# মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রনে পুলিশি ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ? শঙ্কিত সর্বমহল #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপির) ৮ টি থানার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন থানা দৌলতপুর। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন, জনগনের জান ও মালের সুরক্ষা নিশ্চিতে পুলিশ জনগনের সেবক হিসাবে কাজ করবে, এটাই পুলিশের মূলনীতি, যা দেশ ও জনগনের প্রত্যাশা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় খুলনা মহানগরীর সমগ্র এলাকার মতো খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ন থানা দৌলতপুর এলাকায়ও দিনজুড়ে প্রকাশ্যে পুলিশের নাকের ডগায় বসে চলছে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন, থেমে নেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমও, প্রকাশ্য দিবালোকে থানার নিকটবর্তী স্থানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাট শ্রমিক জলিল মুন্সির মৃত্যুর লোমহর্ষক ঘটনাটিই প্রমান করে দৌলতপুরে সর্বত্র আইন-শৃৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে, যা ভাবিয়ে তুলেছে সর্বমহলকে।
পুলিশের নাকের ডগায় বসে বিক্রি হওয়া মাদকদ্রব্য (ইয়াবা-গাঁজা) মিলছে যত্রতত্র, প্রকাশ্যে খুনের ঘটনায় মামলা হলেও খুনের ১১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও খুনিরা এখনো গা ঢাকা দিয়ে আছে, ওই হত্যা মামলায় আসামীদের নাম (এজাহারনামীয়) উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে পুলিশ। দৌলতপুর থানা এলাকায় বর্র্তমানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, গভীর রাতে সন্ত্রাসীদের মহড়া, মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাদকাসক্তদের রাত জেগে এসি ও সার্ভিস তার চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকসহ দৌলতপুরের সর্বস্তরের মানুষ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। তারা উল্লেখিত বিষয়বস্তু নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ বলেছেন, এই মাদকদ্রব্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে ঘিরে এক সময়ের শান্ত উপশহর দৌলতপুর এখন অশান্ত হয়ে উঠেছে। ওই সকল কারণে দৌলতপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজী, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী, একাধীক হত্যা ও হত্যা প্রচেষ্টা এবং নানামুখি সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। দৌলতপুর যেন হয়ে উঠেছে সস্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে।
পুলিশ বলছে, দৌলতপুর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন ও সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকা-রোধে আমাদের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যহত রয়েছে। ওই সকল অভিযানে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আসামী গ্রেপ্তার, নিয়মিত মামলা রুজুর পাশাপাশি বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য (ইয়াবা-গাঁজা) উদ্ধার ও জব্দ করা হচ্ছে। দৌলতপুর থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত ও নিয়ন্ত্রনে পুলিশ তার পেশাদারিত্বে জায়গা থেকে আরো বাড়তি সর্তকতা ও কঠোরতার মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট থানার তথ্যসূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে (২০২৬ ইং) দৌলতপুর থানা এলাকায় মাদক বিরোধী নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪ টি ইয়াবা মামলার বিপরীতে ৪ জন আসামী গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ইয়াবা মামলার বিপরীতে পুলিশ ২০২ পিস (দুইশত দুই পিস) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে এবং ৩ টি গাঁজা মামলার বিপরীতে ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই গাঁজা মামলার বিপরীতে ৬৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার ও জব্দও করে পুলিশ।
অথচ সূত্রে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা এলাকার নতুনরাস্তা সংলগ্ন, ট্যাকংলরী সংলগ্ন, কবিরবটতলা, পাবলা হাঁসখামার সংলগ্ন, কারিকরপাড়া, যশোর মোড়, মুকুল ভান্ডার, দাসের ভিটা, তিন দোকানের মোড়, দেয়ানা পূর্বপাড়া হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন, মোল্লা পাড়া বালির মাঠ সংলগ্ন, কেডিএ (কল্পতরু) মার্কেটের পরিত্যক্ত ভবন, ঋষিপাড়া মোড় সংলগ্ন, বিআইডিসি রোড (দৌলতপুর স্টেশন রোড সংলগ্ন), স্টেশন সংলগ্ন, হেলালের বাগান, রেলওয়ে কলোনী সংলগ্ন, রেলিগেট মায়ার পয়েন্ট, ইস্পাহানী কলোনী সংলগ্ন, মধ্যডাঙ্গা নগর, কৃষি কলেজ সফেদা বাগান, ইসলামবাগ, পালপাড়া বালুর মাঠ, সাড়াডাঙ্গা কবরখানা রোড, আসাদের মোড় সংলগ্ন, গাজীর মোড়, শিকারীর মোড়, গোলকধাম মোড়, মহেশ^রপাশা পশ্চিমপাড়া, রানার মাঠ, সাহাপাড়া, দিঘির পাড় সংলগ্ন, মানিকতলা রেললাইন সংলগ্ন, সেনপাড়া, মাইল পোষ্টসহ এসব এলাকার অলিগতিতে একদিকে যেমন চলছে অবাধে মাদকের কেনাবেচা, অপরদিকে চলছে পাহারা দিয়ে মাদক সেবনও। পুলিশ বিভিন্ন সময়ে মাদক কারবারীদের গ্রেপ্তার ও মামলা করলেও থামছেনা। অল্পস্বল্প মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া ওই আসামীরা পুনরায় জামিনে বের মাদক কেনাবেচায় যুক্ত হচ্ছে। একটি সূত্র বলছে, পুলিশের নাকের ডগায় বসে মাদক কারবারীরা উঠতি বয়সি তরুন, ছদ্মবেশী নারী, রিক্সা চালকসহ অভিনব পন্থায় মাদকের হাতবদলে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। মাদক বিক্রেতারা মাদক বহনের ক্ষেত্রে যাদের ব্যবহার করছে, তাদের দেখে পুলিশের আদৌ সন্দেহ হওয়ার কথা নয় যে, তারা মাদক বহন করতে পারে। যত্রতত্র সহজলভ্য মাদকদ্রব্য হাতে পাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন করে তরুনসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ মাদকের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এই মাদকের অবাধ ছড়াছড়িতে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন চরমভাবে বিচলিত হয়ে পড়ছেন। তারা শঙ্কিত কখন তার আদরের সন্তানটি সর্বনাশী ভয়াবহ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। শঙ্কিত অভিভাবকগন ,সচেতন ব্যক্তিবর্গ মাদক নিয়ন্ত্রন ও নির্মূল, মাদককারবারী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জোরদার আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের জোরদাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের আরও জিজ্ঞাসা কোথা হতে, কার নৈপথ্যে ও ইন্দনে, কোন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে মাদককারবারীরা কোথা হতে সরবরাহ করছে এই সর্বনাশী মাদক?
সম্প্রতি সময়ে দৌলতপুর থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতোটাই অবনতি হয়েছে যে, গত ১২ সেপ্টেম্বর(শনিবার) আনুমানিক সকাল ৮ টার দিকে দৌলতপুর থানার নিকটবর্তী ইস্পাহানী জুট প্রেস কলোনী (কুলিবাগান) এলাকার খুলনা-যশোর সড়কের পূর্বপাশে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা পাট শ্রমিক জলিলকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে মোটর সাইকেলযোগে আসা দুবর্ৃৃত্তরা। স্থানীয়রা ও পুলিশ ঘটনাস্থল হতে গুলিবিদ্ধ ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। প্রাথমিক সুরাতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। ওই হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহত জলিলের পিতা দেলোয়ার মুন্সি (দিলু) বাদী হয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ৩ এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৯, তাং- ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং)। এদিকে, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে পাট শ্রমিক জলিল মুন্সি খুনের ঘটনার ১১ দিন অতিবাহিত হলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশ ওই খুনের ঘটনায় জড়িত কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতেই প্রমানিত হয় যে জনগনের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও পুলিশ সম্পন্নরুপে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, মন্তব্য সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের।
দৌলতপুরে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির দৃশ্যপট এখানেই শেষ নয়, গত ২৬ আগষ্ট (বুধবার) দৌলতপুর থানাধীন বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কার্তিককূল নাসির নামের এক ব্যক্তির মাছের ঘের হতে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজের তিন দিন পর সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলাম (রনি) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৭ আগষ্ট সকল আইনগত প্রক্রিয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিহতের পরিববারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। ২৮ আগষ্ট সকালে নিহতের মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ এ হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত থাকায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে কেএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে শোনঅ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। রাজিয়া আক্তার নামের এক অভিভাবক জানান, ছেলে ৯ম শ্রেনীতে পড়ে। ওর বাবা খুলনার বাইরে থাকে। ছেলে স্কুল-কোচিং মিলে দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে কাটায়। মাদকের খুব ভয়াবহ অবস্থা, আশপাশে মাদকের ছড়াছড়ি। যদিও ছেলেকে শাসনে রাখি, নিয়মিত স্কুল ও কোচিং যাচ্ছে কিনা, কার সাথে ওঠাবসা করে খোঁজ খবর নেয়। তারপরও ভয় লাগে কখন বাজে সঙ্গে মিশে মাদকে না জড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পাবলা একটি মোড়ে দাঁড়িয়ে পান খাচ্ছিলাম। দেখছি, একটি গলির ভেতর কিছুক্ষন পর পর উঠতি বয়সী তরুনেরা প্রবেশ করছে। অতঃপর কি যেন একটা হাতের ভেতর নিয়ে চলে যাচ্ছে। পরে শুনলাম ওখানে নাকি মাদক স¤্রাট হিরো নামের এক মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে যদি হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়, তবে তরুন প্রজন্ম ধ্বংস হতে আর বেশি দিন সময় লাগবে না। মাদক নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করা দরকার ।
এ বিষয়ে কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর শেখ আশরাফ হোসেন প্রবাহকে জানান, মাদক বিস্তারে পুলিশের তৎপরতার ঘাটতি, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্ববোধের অভাব এবং অভিভাবক মহলের উদাসীনতায় মূল কারণ বলে আমি মনে করি। মাদক নিয়ন্ত্রনে যার যার জায়গা থেকে সচেনতা সৃষ্টির পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা পালন করলেই একমাত্র মাদক নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। এখন থেকে যদি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন করা না যায়, তবে ভবিষ্যৎ এটি আরো ভয়াবহ আকার ধারন করবে।
এ বিষয়ে নিহত জলিলের পিতা ও মামলার বাদী দেলোয়ার মুন্সি দিলু প্রতিবেদককে জানান, আমরা সাধারন মানুষ। ছেলে তো হারিয়ে গেছে, ও কি আর ফিরে আসবে। আর কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। পুলিশ ছেলের মোবাইলটি নিয়ে গেছে। তারা আসামী ধরতে কাজ করছে, ১১ দিন কেটে গেলেও তবুও তারা একজন আসামীকে ধরতে পারলো না। আমি খেটে খাওয়া মানুষ, টাকা-পয়সা নেই। দুনিয়ার আদালতে ছেলে হত্যার বিচার চাই না, আল্লাহর আদালতে ছেলে হত্যার বিচার ছেড়ে দিলাম।
এ বিষয়ে নিহত মনিরুল ইসলাম রনির মা ও মামলার বাদী নাসিমা বেগম প্রতিবেদককে জানান, রনি হত্যার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হতে গেলেও পুলিশ শুধু তদন্তই করছে, উল্লেখযোগ্য কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে শুনেছি র‌্যাব বাহিনী এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো? খুনি করা জানতে পারলাম না। ছেলে হত্যার বিচার চাই, বাকি আসামীদের সামনে দেখতে চাই, আসামীদের সর্ব্বোচ শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ণ সংস্থার সমান্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম জানান,সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতার কারণে যুবসমাজ নষ্ট হচ্ছে এবং এর সাথে সম্পর্কিত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন (মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন) এবং বিচার হলেও মূলত ছোটখাটো বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতারাই ধরা পড়ে। মূল গডফাদার ও বড় চালানকারীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যাদের ধরা না গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় অনেক এলাকায় মাদকের ব্যবসা পরিচালিত হয়। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি যুবসমাজকে খেলাধুলা ও গঠনমূলক কর্মকা-ে ব্যস্ত রাখার জন্য ক্লাব সংস্কৃতি ও জ্যেষ্ঠদের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা দরকার। নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের অভাব মাদক সমস্যার বিস্তার ঘটাচ্ছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর খুলনা জেলা সভাপতি এড, কুদরত-ই খুদা জানান, যেকোনো সংগঠিত অপরাধের কারন খুঁজতে গেলে তার পেছনের মূল কারনই মাদক। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। এর ভয়াবহতার কারনে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যাচ্ছে। প্রশাসন নাম মাত্র মাদক বিরোধী অভিযান করে দু’একটা চুনাপুটি আটক করলেও রাঘব বোয়ালরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। একটি মাদকমুক্ত সমাজ বির্নিমানে পুলিশকে তার পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি এম মুর্শিদ কামাল প্রতিবেদককে জানান, খুলনাসহ দৌলতপুর অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে মাদকের ছড়াছড়ি, এবং সন্ত্রাসী কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৭ বছরে প্রশাসনের ভেতরে যে ফ্যাসিস্ট আমলারা ছিল, তারা এই পরিবর্তনের পরেও ঘাপটি মেরে রয়ে গেছে। প্রশাসনের ভেতরে ওই ঘাপটি মেরে থাকা লোকগুলোই মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস জিইয়ে রাখছে, যাতে দেশের ও বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এটি তাদের এক অপচেষ্টা। এ কারণেই সন্ত্রাসও দমন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে পেশাদারিত্বের জায়গা হতে পুলিশকে আরও বেশি সচেতন হয়ে কাজ করা উচিৎ।
পাট শ্রমিক জলিল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাউসার মাহমুদ জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখন অনেক কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। পেশাদার খুনিরা এ কিলিং মিশনে অংশ নেয়। অপরাধীরা পেশাদার হওয়ার দরুন বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে এবং হত্যার প্রকৃত কারনও জানানো হবে।
এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুফল রায় জানান, মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে এই মামলায় সম্পৃক্ত থাকায় খুলনার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমানকে আদালতে শুনানির মাধ্যমে শোনঅ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে (অত্র মামলার আসামী হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে)। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যার মূল রহস্য উৎঘাটনে সক্ষম হবে।
এ বিষয়ে কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় প্রতিবেদককে জানান, মাদক নিয়ন্ত্রনে আমাদের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যহত রয়েছে। প্রতিদিনই মাদক মামলায় আসামী গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য জব্দ করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রনে আমরা কঠোর তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। প্রতিবেদকের অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, দৌলতপুরে সম্প্রতি দুটি হত্যাকা-ের তদন্তের কার্যক্রম চলমান আছে। ওই সকল খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান অব্যহত রেখেছি। আশাবাদী হত্যাকা-ের মূল রহস্য উৎঘাটন ও আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। যেহেতু দৌলতপুর থানা এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button