রক্তের দাগ শুকানোর আগেই দেশে ফেরার দুঃস্বপ্ন দেখছেন হাসিনা,বাংলার মাটিতে আর ঠাঁই নেই : শফিকুল আলম তুহিন

# খুলনায় যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাদেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন,চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ৫ আগস্ট যে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন,বাংলার মাটিতে তাদের আর কোনোদিন পুনর্বাসন বা ঠাঁই হবে না। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে বার্তা হাসিনা দিচ্ছেন, তা কেবলই দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে। সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও দেশবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার বিকালে নগরীর শিববাড়ি মোড় থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রয়েল মোড়ের এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।খুলনা মহানগর যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর রাজপথে মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শফিকুল আলম তুহিন সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,আজ দুপুরে একটি সাক্ষাৎকারের বিবরণ দেখছিলাম। গণভবনের পেছনের দরজা দিয়ে তড়িঘড়ি করে দুই বোন কীভাবে হেলিকপ্টারে দিল্লি পালিয়ে গেছেন, সেই বিবরণ সেখানে এসেছে। তিনি (শেখ হাসিনা) বলছেন, তিনি নাকি ভেবেছিলেন তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে! তিনি বুঝতেই পারেননি বাংলাদেশ থেকে তিনি চিরতরে বিদায় নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,এখন তিনি দাবি করছেন ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন আর যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ঘরে বসে থাকবে এটা কি সম্ভব,২৪-এর ৫ আগস্ট বাংলার মাটি থেকে এই ফ্যাসিস্টদের বিতাড়িত করা হয়েছে। ক্ষমতার লোভে চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের পুলিশই স্বীকার করেছে‘একটা গুলি করি, একজন মরে,আরো তিনজন এগিয়ে আসে’। এই বর্বর গণহত্যার পরও তাদের আর রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকে না। বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে নগর বিএনপির এই নেতা বলেন,শেখ হাসিনা গত ১৭ বছরে দেশ থেকে ৩৩ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। তিনটি অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় থেকেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বিনা কারণে জেল খাটিয়েছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেননি,এমনকি একমাত্র ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায়ও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। আমাদের শত শত নেতাকর্মীর মা-বাবা, ভাই-বোন মারা গেলেও কারাবন্দী অবস্থায় তাদের শেষবারের মতো জানাজা পড়ার সুযোগটুকুও দেয়নি এই জালিম সরকার। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,যতদিন আমাদের শরীরে শহীদ জিয়ার আদর্শের রক্ত প্রবাহিত হবে, ততদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও তার দোসররা বাংলার মাটিতে আর প্রবেশ করতে পারবে না। তাকে দেশে ফিরতে হলে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়ানোর জন্যই ফিরতে হবে।
সমাবেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথাকথিত গুপ্ত সংগঠন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিএনপির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদগারের কড়া জবাব দেন তুহিন।
তিনি বলেন,বিগত ১৭ বছর যখন রাজপথে আমরা স্বৈরাচারের বুলেট,পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার মুখে রক্ত দিয়েছি,তখন অনেকেই আত্মগোপনে বা গুপ্ত ছিলেন। আজ তারা বিএনপির ঘাড়ে ভর করে বড় বড় কথা বলছেন, তারেক রহমান ও দলের নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করছেন এবং সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। তাদের মনে রাখা উচিত জনগণ অতীতে সরকারের পতন দেখেছে,এবার কিন্তু দেশবিরোধী অপশক্তির পতন দেখবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও যারা এখনও দেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না,তারা কোনোভাবেই এ দেশে রাজত্ব কায়েম করতে পারবে না।
গণতন্ত্রের উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,গণতন্ত্রের পথে যে যাত্রা শুরু হয়েছে, সেই যাত্রায় বাধা দিতে যদি কেউ আঙুল তোলে,তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সেই ষড়যন্ত্রের হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শেখ আব্দুল আজিজ সুমন।মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেলের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন,খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজ,সচিব ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি,মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাজিম বিশ্বাস,সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লব,উপস্থিত ছিলেন,খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের,মুনতাসীর আল মামুন,আহমেদ সিরাজী রুবেল, মাহমুদুল হক টিটু, মিরাজ শাহিন শুভ, মঞ্জুর শাহিন রুবেল,নাঈম হাসান হাসিব,মাহমুদ আকুন্জি,সিফাত আহমেদ রিকি,গোলাম কিবরিয়া, বেলাল হোসেন সুমন, সৌরভ, সামদানি মোল্লা, আলাউদ্দিন তালুকদার, আল আমিন সরদার রতন, মাসুম বিল্লাহ, রাকিব হাসান, রায়হান বিন কামাল,যুগ্ন মহানগর যুবদলের যুগ্নু আহবায়ক সোহেল মোল্লা,মোঃ কামাল হোসেন, রকিবুল ইসলাম রকিব, আমিন আহমেদ মিঠু, গোলাম জুলকারনাইন,নাসিম আহমেদ ইমন,এডভোকেট ফজলুর রহমান রাজা,হাবিবুর রহমান কাজল,তামজীদ আহমেদ মিশু
মহানগর ছাত্রদলের,সৈয়দ ইমরান, রিয়াজুল খান মুরাদ, মোঃ শাকিল আহমেদ,হাসান মাহমুদ, মোঃ সজল হোসেন,মোঃনাজিম উদ্দিন ভূইয়া শামীম,এস এম ইউসুফ, ইমরান সালেহ সিফাত,হিমি বিশ্বাস, মানজারুল ইসলাম রানা, হাবিবুর রহমান শোভন, মোঃ মিরাজ হোসেন মানিক, মিজানুর রহমান মৃদুল, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ, কামরুল ইসলাম,শেখ শামসাদ হোসেন আবিদ,নাসিম রহমান নাহিদ,সাইফুল্লাহ মানসুর তাজিম,মোঃ রিফাত ইসলাম, আবু উবাইদা মাহিম,এম এম মুন্না , এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, জামিল আক্তার, মো রাজ, সাজ্জাদ হোসেন রিপ্পি,ফয়সাল বাপ্পী,মোঃ রাকিব হোসেন,মোঃ রাকিব ইসলাম,পারভেজ হোসেন মিজান,এস এম ইলিয়াস,ইসমাইল হোসেন,তরিকুল ইসলাম নকীব,ইসরাইল হোসেন জিসান, আবুল হায়াত শুভ,ইমরান মল্লিক, রাকিবুল ইসলাম,আসিফ,মনিরুজ্জামান আবিদ,আবু সালেহ,সোয়েব,হামিম,নাজমুল,সোয়াদ,সেজান,রুম্মান,অনিক,সজীব,গালিব,নাহিদ,সায়েম মুন্সীসহ মহানগর যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,এবং ছাত্রদলের সহ নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।



