জাতীয় সংবাদ

চুয়েটে নতুন ভিসির যোগদান প্রত্যাখ্যান, ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রবাহ রিপোর্ট : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ফের মিছিল, সমাবেশ ও দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিক্ষোভ চলাকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানান, সংবাদমাধ্যমকে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, “বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাকে সাদরে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।”
নতুন উপাচার্যের এ বক্তব্য প্রকাশের পর শনিবার সকালে এর প্রতিবাদে ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচিও চলছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, “ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।”
মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, “নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এছাড়া, উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানের বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে দেয়াল লিখনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, “গতকাল আমরা জেনেছি, উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। গতকাল আমাদের শিক্ষকরা রোববার থেকে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে চাই না।”
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) টিএসসির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপাচার্য হিসেবে যোগদানের জন্য ক্যাম্পাসে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই যোগদানপত্রে তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার এ যোগদানের প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তারা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের কথা জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button