বাগেরহাটে ইউপি প্রশাসক অবরুদ্ধ : সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

# ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে মুক্ত করলেন এসিল্যান্ড #
বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ
জন্মসনদসহ নাগরিক সেবাদানে প্রকাশ্য ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একজন ইউপি প্রশাসক কে অবরুদ্ধ করে ভুক্তভোগি সেবা গ্রহীতারা। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ ইউপি প্রশাসক উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা খান মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেলের বিরুদ্ধে নাগরিক সেবা দিতে ঘুষ গ্রহন ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সেবা গ্রহীতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তাকে লাঞ্চিত করাসহ অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দৌজা ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশের সহযোগিতায় মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেলকে উদ্ধার করে নিজ গাড়িতে করে উপজেলায় নিয়ে আসেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশকায়েম (উত্তরাধিকার সনদ), গর্ভকালীন ভাতা অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন সেবা নিতে নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করেন ওই প্রশাসক। দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে দিনের পর দিন পরিষদে ঘুরতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। প্রসঙ্গতঃ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা খান মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেলকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন নাগরিক সেবার নামে নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠতে থাকে তার বিরুদ্ধে। পীযূষ কান্তি গোলদার নামের একজন ভুক্তভোগী বলেন, তার ছেলের একটি জন্ম সনদের জন্য দিনের পর দিন ঘুরানো হয়েছে এবং দালালের মাধ্যমে অর্থ চেয়েছে। এ সময় রিপন হাওলাদার নামের একজন নাগরিক অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে তাকে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বলা হয়েছে। টাকা না দিলে সেবা পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাবুল শেখ নামের আরো একজন নাগরিক বলেন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমাধান না পাওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ তৈরি হয়। শুধু সাধারণ সেবা গ্রহীতাই নন, ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ওই প্রশাসকের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এই প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে নারী ইউপি সদস্যদেরও। নারী ইউপি সদস্য হেনা বেগম অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সদস্যদের মতামত ও সহযোগিতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমন কি তাদের মাসিক সম্মানি নিতেও প্রশাসককে ঘুষ দিতে হয়েছে। একই অভিযোগ অন্য দুই ইউপি সদস্য নিলুফা বেগম ও নিপা বেগমেরও। নাগরিক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ও বাস্তবায়ন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান স্থানীয়রা। ঘটনার বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগকারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ৫জনের স্বাক্ষ্যসহ অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ বিষয়ে গোপালপুর ইউপি প্রশাসক খান মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেল তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, এসব ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সংবাদ কর্মীদের বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



