স্থানীয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে এস এম কামালের আপসহীন ভূমিকা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় : শফিকুল আলম তুহিন

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের রক্তচক্ষু, জুলুম ও গুম-খুনের রাজনীতির কাছে কখনো মাথা নত করেননি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন। খুলনার রাজপথে পুলিশের বৃষ্টির মতো নিক্ষিপ্ত বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের অনন্য রাজনৈতিক সাহস ও নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের তৈরি করা ডেথ লিস্ট বা ক্রসফায়ারের তালিকায় খুলনার যে তিনজনের নাম ছিল,এস এম কামাল ছিলেন তাঁদের অন্যতম। আপস করে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার বহু পথ খোলা থাকলেও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় খুলনার কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন।জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর ছাত্রদল এ কর্মসূচির আয়োজন করে। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তাজিম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু ও চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমনসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল আলম তুহিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রয়াত ছাত্রনেতা এস এম কামালের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন,এস এম কামাল হোসেন শুধু একটি নাম নয়, তিনি খুলনার ছাত্ররাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। বর্তমান নতুন প্রজন্ম যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী আন্দোলন সংগ্রাম দেখেনি, তাদের এস এম কামালের আদর্শ ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও রাজপথের সাহস ছিল বিরল দৃষ্টান্ত। কেন্দ্রঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন,যার কারণে দেশনায়ক তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে গভীর স্নেহ ও ভালোবাসার চোখে দেখতেন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের পুলিশি নির্যাতনের বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন,পিটিআই মোড় থেকে মডার্ন ফার্নিচারের দিকে যাওয়া একটি মিছিলের দৃশ্য আমার স্মৃতিতে আজও স্পষ্ট। পেছন থেকে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ছিল, তখন এস এম কামাল পুলিশের উদ্যত বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করার এই দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি অসংখ্যবার নিজের জীবন বাজি রেখেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিয়ে শফিকুল আলম তুহিন বলেন,এস এম কামালের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো মানে শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে এসে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা বা কান্নাকাটি করা নয়। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা টেন্ডারবাজির সঙ্গে তাঁর রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমরা যদি তাঁকে সত্যিই ধারণ করতে চাই, তবে সবাইকে একজন পরিচ্ছন্ন, নীতিবান ও আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন,ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে বিতাড়িত শেখ হাসিনা ভারতে বসে এখনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘মানবিক রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি প্রয়াত এস এম কামালের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত স্ত্রী,একমাত্র কন্যাসন্তান ও পরিবারের সদস্যদের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন।

স্মরণসভায় উপস্থিত সাবেক ছাত্রনেতারাও এস এম কামালের সাথে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা কামালের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অসীম ত্যাগ এবং দলের প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্যের কথা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। এ সময় খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তাজিম বিশ্বাসসহ সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ এস এম কামাল হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর পৈতৃক নিবাস নগরীর টুটপাড়াস্থ একটি সড়কের নামকরণের জোর দাবি জানান। এ সময় সাবেক ছাত্রদল নেতা,খান রাকিব, মুজাহিদুল ইসলাম টনি, আমিন হোসেন মিঠু, মিজানুর রহমান বাবু, মমসেদুল ইসলাম সজীব, রায়হান হোসেন জুম্মা, শরীফ ওবায়দুর রহমান চয়ন, হেদায়েতুলল্লাহ দিপু,মহানগর ছাত্রদল নেতা,সৈয়দ ইমরান, রিয়াজুল খান মুরাদ, শাকিল আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সজল হোসেন, নাজিম উদ্দিন শামীম,এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, হিমি বিশ্বাস, হাসিবুর রহমান শোভন, মিজানুর রহমান মৃদুল, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ, কামরুল ইসলাম, নাসিম রহমান নাহিদ, রিফাত ইসলাম, এম এম মুন্না, এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান,শিহাবুল আরেফিন লুপিন ,ওহিদুজ্জামান খান, তরিকুল ইসলাম নকিব,এস এম ইলিয়াস, ইসমাইল হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান,মারুফুর রহমান,শেখ রাজ, ইসমাইল ইসলাম, রকিবুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন জিসান, সাগর সরদার, মাহিন রহমান, ইমরান মল্লিক, রবিউল ইসলাম নয়ন, আল আমিন হোসেন, মনিরুজ্জামান আবিদ, রাকিব হোসেন, মহিউদ্দিন তালিম, তরিকুল ইসলাম নাহিদ,শাহ জালাল আকাশ, রুম্মান হোসেন, ইমতিয়াজ হোসেন সেজান, মিজানুর রহমান তামিম, শেখ সোয়েব, ফারহান জামান মাহিন, রাকিব হাসান, নাজমুল হোসেন প্রমুখ আলোচনা সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ মরহুম এস এম কামালের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের শান্তি কামনায় ফাতিহা পাঠ ও দোয়ায় অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button