মহাসড়কে এআই নজরদারি : সেবার পরিধি বাড়ানো হোক

মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা নতুন কিছু নয়। অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে ওভারটেকিংসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৮ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এআই নজরদারির আওতায় আনা হয়। আর এর সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। গতকাল কালের কয়েকটি গণমাধ্যমে লেখা হয়েছে, দুর্ঘটনা কমেছে, কমেছে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অভ্যাসও। একসময়ের নিয়ম না মানা চালকরা এখন নিয়ম মানতে শুরু করেছেন। ফলে দেখা গেছে, সড়কে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। খবরে বলা হয়, অটো ফাইন সিস্টেম চালুর আগে জুলাই মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৪৭ জন। সেপ্টেম্বর মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৪-এ। ফলে জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা কমেছে ১৩টি (প্রায় ২৮ শতাংশ)। জুলাইয়ে ৪৭ জন নিহত হলেও সেপ্টেম্বরে নিহতের সংখ্যা ৪১-এ দাঁড়ায়। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে অতিরিক্ত গতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থায়। তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে অতিরিক্ত গতির কারণে ৩২৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০৭-এ। জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত গতির প্রসিকিউশন বেড়েছে প্রায় ১৪৮ শতাংশ। কমেছে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর প্রবণতাও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রসিকিউশন বেড়ে যাওয়াকে সরাসরি আইন ভঙ্গ বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। এআই ক্যামেরা চালুর ফলে আগে যেসব অনিয়ম শনাক্ত হতো না, সেগুলো এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হচ্ছে। ফলে আইন ভঙ্গ শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের দেশে চালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম নয়। কোনোভাবেই যেন তাঁরা আইন মানতে চান না। সুযোগ পেলেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যান। কিন্তু এখন এআইয়ের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে রাজধানী ঢাকায়ও বিভিন্ন সড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করে সুফল পাওয়া গেছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগ। আধুনিক এই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অফিস-আদালত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন অনেক কর্মকা-ে গতি এসেছে। অনেক কাজ আগের চেয়ে নিখুঁত হয়েছে। কাজেই সড়কে এআই ক্যামেরা প্রতিস্থাপন অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে মনে রাখতে হবে, এসব প্রযুক্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। কেউ যেন নিয়ম না ভেঙে প্রযুক্তির ফাঁদে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি এই সেবার পরিসর বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
