জাতীয় সংবাদ

এক হালি কমলার দাম ৫০ হাজার টাকা!

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় একটি ওয়াজ মাহফিলে চারটি কমলা নিলামে তোলা হয়েছিল। পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া সেই নিলামের দাম শেষ পর্যন্ত উঠেছে ৫০ হাজার টাকায়। চারটি কমলা কিনে নিয়েছেন এক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করে এই চারটি কমলা নিলামের মাধ্যমে অর্ধলাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মরিচা মাদ্রাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন কয়েক বছর ধরে ওয়াজ মাহফিলের সময় মাদ্রাসার সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ফল নিলামে তোলা হয়। এবার চারটি কমলা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া আধা কেজি খেজুরও নিলামে তোলা হয়েছিল। সেটি বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়। জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদ্রাসায় আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে এ নিলাম হয়। মাহফিলের প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তা শায়খুল হাদীস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী কমলাগুলো নিলামে তোলেন। মাহফিলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, ওয়াজ ও দোয়া শেষ হওয়ার আগে মাদ্রাসার সহযোগিতার জন্য ফলগুলো নিলামে তোলা হয়। শুরুতে চারটি কমলার দাম হাঁকা হয় ৫ হাজার টাকা। একপর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি দাম বাড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দাম হাঁকেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। তিনিই চারটি কমলা কিনে নেন। মাহফিলের পুরো আয়োজনের পাশাপাশি নিলামের পর্বও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। ফলে নিলামে কমলার দাম ৫০ হাজার টাকা ওঠার বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কমলা কিনে নেওয়া আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, তার বাবা মূলত মাদ্রাসাটিকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই কমলাগুলো কিনেছেন। মাদ্রাসার উন্নয়নে তিনি নিয়মিত সহযোগিতা করেন। এছাড়া বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব ফলের দাম সাধারণ বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করার বিষয় নয়। নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত মাদ্রাসার উন্নয়নে সহযোগিতা করার মানসিকতা থেকেই ফলগুলো কেনেন। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির কাজে ব্যয় করা হবে। মাহফিলে অংশ নেওয়া মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন বলেন, নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মূল লক্ষ্য ছিল মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তা করা। সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে ফল বা অন্য কোনো সামগ্রী নিলামে বেশি দামে বিক্রি হলে সেটিকে তারা মাদ্রাসার জন্য সহযোগিতা হিসেবেই দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button