দু’ ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে কেসিসি’র গাড়ি চালক নিহত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দু’ ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) গাড়ি চালক মো. আব্দুস সালাম (৫০) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরের পাওয়ার হাউস মোড় সংলগ্ন কেসিসির ক্লে ট্যাংক গ্যারেজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অপর গাড়ির চালক বারেক গাজী পলাতক রয়েছে। নিহত আঃ সালাম সোনাডাঙ্গা থানার ময়লাপোতা এলাকার মো. মেছের আলীর ছেলে। তার মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে। কেসিসির চালক মো. সাফায়েত হোসেন জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে বাইরে থেকে গাড়ি চালিয়ে গ্যারেজে প্রবেশ করেন বারেক। তিনি সালামকে গাড়ি সরিয়ে নিতে বললে তাকেই গাড়ি সরাতে বলেন। এরপর আঃ বারেক (মাস্টাররোল শ্রমিক) স্টার্ট দিলে গাড়িটি সামনের দিকে গিয়ে আঃ সালামকে ধাক্কা দেয়। দু’ গাড়ির মাঝে চাপা পড়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মতিয়ার রহমান। তিনি জানান, মৃত চালকের পরিবার মামলা করতে চাইছে না। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পলাতক চালক বারেককে আটক করা গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। সংবাদ পেয়ে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. মশিউজ্জামান খানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই একটি চক্র দৌড়ঝাঁপ করতে থাকে। এমন কি ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের চেষ্টা করলে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ বাঁধা দেয়। ওসি জানান, তারা লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের উদ্যোগ নেয়। তাদের বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের অনুমতি পেলে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা যাবে। নিহতের ছেলে ফয়সাল এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমিত দেন জেলা প্রশাসক বলে জানান সোনাডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। একটি সূত্র জানায়, চালক মিলনের টায়ার এক্সেভেটর চালাতে গিয়ে আঃ বারেক এ দুর্ঘটনা ঘটায়। এ বারেকের বৈধ কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বলে সূত্রটি জানায়। কেসিসির সচিব বলেন, ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যাই। ঘাতক চালক বারেক মাস্টাররোল শ্রমিক। তবে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না তা জানতে চাওয়া হবে।



