খুলনায় পুলিশ যদি রাতে একা না চলতে পারে সাধারণ মানুষ কী করবে?

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ দিয়েছে খুলনা জেলা পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর প্রশ্ন উঠেছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশই যদি রাতে একা চলতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে খুলনার আইনজীবী বাচ্চু শেখ বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। পুলিশকে রাতে একা চলতে সতর্কতা দরকার হলে সাধারণ মানুষের আশা ভরসা কোথায়? হ্যাঁ, পুলিশকেও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু সেটা অভ্যন্তরীণভাবে করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এভাবে ওপেন ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে সতর্ক করলে সাধারণ মানুষ আরও সংকটে পড়তে পারে।’নারী নেত্রী সিলভী হারুন বলেন, ‘পুলিশের রাতে একা চলাচলে সংকট হলে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা উপলব্ধি করা যায়। আর নারীরা তো আরও অসহায়। ঢাকায় ভোর ৪টা থেকে বাস। এসব বাসে নারী, পুরুষ ও শিশুও থাকে। ভোর ৬টায় ট্রেনেও একই অবস্থা। পুলিশ সংকটে পড়লে এ মানুষগুলো রাতে একা কি করে বের হবে? পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।’বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশকেই যদি রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে? খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এ বিষয়ে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’খুলনার পুলিশ সুপার ওমর ফারুক বলেন, ‘পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীর আঘাতে তার হাতের আঙুল কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। অবস্থা এমনই গুরুতর। তাই রাতের বেলা সতর্কতার সাথে চলাচল করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন করে যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন এ জন্য একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।’খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস- ভারপ্রাপ্ত) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, ‘সমস্ত পুলিশের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।’
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)। গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।ছিনতাইকারীর হাতে পুলিশ পরিদর্শক জখমের পর খুলনায় রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বর্তমানে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা পরিলক্ষিত হওয়ায় সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অভিযান কিংবা অন্যান্য দায়িত্ব পালনকালে রাতে কোনোভাবেই যেন সদস্যরা একা চলাচল না করেন, তা নিশ্চিত করতে ইউনিট প্রধানদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিএসবি থেকে জারি করা ওই নির্দেশনার স্মারক নম্বর ৫০৬২। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট চার থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



