জাতীয় সংবাদ

পাগলা মসজিদের ‘রত্নভাণ্ডারে’ মিলল ১২ কেজি সোনা

প্রবাহ রিপোর্ট : কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ‘রতœভা-ার’ ছয় বছর পর খোলা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ কেজি সোনা ও ১২ কেজি রূপা এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। পাগলা মসজিদের দানবাক্স তিন মাস পরপর খোলা হয়। বাক্সে পাওয়া যায় টাকা-পয়সা। সেই সঙ্গে সোনা-দানাও। বাক্স খোলার পর টাকার পরিমাণ হিসাব করে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাক্সে পাওয়া সোনা-রূপা, বিদেশি মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। সেগুলো কয়েক বছর পর পর খোলা এবং হিসাব করা হয়।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে আসেন। তাঁরা দান করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টা ট্রেজারির দরজা খোলা হয়। এরপর সেই ‘রতœভা-ারে’ মেলে নয়টি কন্টেইনারে ভর্তি সোনা ও রূপা। ছয়টি সিলগালা খামে ছিল বিদেশি মুদ্রা। কড়া নিরাপত্তায় এগুলো জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিয়ে আসা হয়।
এরপর এগুলো বাছাই, পরিমাপ ও গণনা শুরু হয়। দিনভর এ কার্যক্রম চলে। এ সব কাজের তত্ত্বাবধান করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন এসআরবি সদস্য নিরাপত্তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদের কর্মীরা পরিমাপ ও মুদ্রা গণনার কাজ করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁদের সহায়তা করেন জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার।
বিকেল সাড়ে ৬টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, পাগলা মসজিদে ছয় বছরে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম সোনা ও ১২ কেজি রূপা জমা পড়েছে।
গণনা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, ৩০টি দেশের বিদেশি মুদ্রা আছে। তবে এগুলো গুনতে আরো সময় লাগবে।
এ সব সোনা ও রূপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলো ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ সোনা-রূপার হিসাব করা হয়। ওই সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রূপা নিলামে বিক্রি করা হয়। দাম পাওয়া যায় ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দানবাক্স খোলা হয়েছে ১৮ বার। কিন্তু সোনা-রূপা পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়নি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা আছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। পাশাপাশি মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
এসব দান থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়নসহ মানুষের কল্যাণে খরচ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button