সম্পাদকীয়

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশ শিকার : সাহসের উৎস কী?

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এখন। কিন্তু তাতে কী, নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে কে? নিষেধাজ্ঞা মানে যেন তা না মানার বীরত্ব। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলছে ইলিশ শিকারের মহোৎসব। বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সন্নিহিত মেঘনাসহ এর শাখা নদীগুলোয় চলছে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য। তারা ট্রলারপ্রতি নিচ্ছেন ২ হাজার টাকা। এর বিনিময়ে মাছ শিকারিরা পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাওয়ার নিশ্চয়তা। ফলে ইলিশ শিকারে আর কোনো বাধা নেই। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকলে কে আর বাধা দেয়? ট্রলারে শুধু ইলিশ বোঝাই করা হচ্ছে না, সেই মাছ দেদার বিক্রি করা হচ্ছে। নিলামে নির্বিঘেœ চলছে বেচাবিক্রি। এভাবে মেঘনা পাড়ের ৬ পয়েন্টে বসেছে নিলামে ইলিশ বিক্রির হাট। প্রতি রাতে বিক্রি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার মাছ এবং এই টাকার একটা অংশ পাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। সবাই জানে, ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর অক্টোবর মাসে দেশের সব নদ-নদীতে মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ বছর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে ৮ অক্টোবর থেকে। অর্থাৎ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরা যাবে না। কে মানে ক্যালেন্ডারের তারিখ? নিষেধাজ্ঞা যাতে কেউ অমান্য করতে না পারে, সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসন। বরিশালেও চলছে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান। প্রশ্ন উঠবেই, আইন যাতে প্রতিপালিত হয়, সেই দায়িত্বে রয়েছেন যারা, তারা কী করছেন? এ বছর শুধু নয়, প্রতিবছর এমনটা ঘটছে এবং নিয়মিতভাবে এই বেআইনি কাজ নিয়ে সংবাদ প্রচার হচ্ছে। তবে কি এটা ধরে নেওয়া যায় যে, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে আছেন যারা, তারা যথেষ্ট সক্ষম নন? এমনও দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকারে বাধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মচারীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এবারও হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য বিভাগের এক কর্মী। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযান পরিচালনার সময় জনবল কম থাকলে জেলেরা আক্রমণের সুযোগ পায়। তাই যদি হয়, তাহলে জনবল বাড়ানো হচ্ছে না কেন? বোঝা গেল, শত শত জেলে যখন একত্র হয়ে হামলা করে, তখন প্রতিরোধ করা কঠিন। তাহলে কি মেনে নিতে হবে এই বাস্তবতা? বিকল্প কিছু ভাবতে হবে অবশ্যই। ইলিশ আমাদের এক বড় সম্পদ। এর প্রজনন রক্ষা করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button