এক টাকায় চার লাউ : আর কত বঞ্চিত হবেন কৃষক

কৃষক যে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান নাÑএটি দেশের কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়। একজন কৃষক গাঁটের পয়সা খরচ করে, দিনরাত পরিশ্রম করে জমিতে ফসল ফলান, আর বাজারে গিয়ে দেখেন উৎপাদন খরচের চেয়েও দাম কম অথবা দামই উঠছে না। আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো, সেই পণ্যের দাম কৃষক না পেলেও ভোক্তাকে ঠিকই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। তাহলে এই বাড়তি টাকা যাচ্ছে কোথায়? এর জবাব হলো, মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকার প্রকাশিত খবরে জানা যায়, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সম্প্রতি চারটি লাউ বিক্রি হয়েছে এক টাকায়, অর্থাৎ প্রতি লাউ ২৫ পয়সা। অথচ সেই লাউ রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে আরো বেশি। চাষিরাও বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বড় শহরে এখনো প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু তাঁদের পকেটে ঢুকছে মাত্র দুই থেকে পাঁচ টাকা। খবরে বলা হয়, প্রতি বিঘা জমিতে লাউ চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে আছে পরিশ্রম। ৫০ থেকে ৬০ দিন পরিশ্রম করে লাউ ফলিয়ে বিক্রি করেছেন সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। বলতে গেলে উৎপাদন ব্যয়, শ্রমÑসবই লোকসান। যে কৃষক একটু লাভের আশায় লাউ চাষ করেছিলেন, সেই কৃষক এখন রাগে-ক্ষোভে দিশাহারা। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার লাউ চাষি ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘লাউয়ের বাজার মন্দা দেখে তড়িঘড়ি করে সব গাছ কেটে ফেলেছি। লাউয়ের পেছনে এক টাকা খরচ করা মানে ওই এক টাকাই লস।’ এদিকে লাউ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকের ভাষ্য, পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় শাক-সবজি পাঠালে ট্রাকপ্রতি ভাড়া গুনতে হয় ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা। পথে পথে অনেক চাঁদাবাজি হয়। এ কারণে পঞ্চগড়ে দুই থেকে পাঁচ টাকায় লাউ কিনলেও ঢাকায় বেশি দরে বিক্রি হয়। এটি ঠিক যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু তাই বলে ২৫ পয়সার লাউ ঢাকায় ৫০ টাকা হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। মনে রাখা দরকার, আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর। কৃষি বাঁচলেই দেশের মানুষ বাঁচবে। সময় বদলেছে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছেÑএই সময় কৃষিপণ্যের অবমূল্যায়ন মানা যায় না। কাজেই কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
