খুলনায় পৃথক তিন ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ৩ : ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনতাই

# মোটরসাইকেলে এসে হামলা, যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা আহত #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় পৃথক তিনটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনজন। তাদের মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা রয়েছেন। অপরজন একটি সিগারেট কোম্পানির কর্মী। মঙ্গলবার দিনের বিভিন্ন সময়ে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। তিনটি ঘটনাতেই মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। নগরীর নিরালা এলাকায় গুলিবিদ্ধ সিগারেট কোম্পানির কর্মীর কাছে থাকা একটি ল্যাপটপের ব্যাগও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। আহত ব্যক্তিদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা গ্রামের অহিদুল ইসলাম বাদল (৩৫), নগরীর সবুজবাগ এলাকার সালমান (২৩) এবং বটিয়াঘাটার বড় কড়িয়া এলাকার মো. সোহেল শেখ (৩৪)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন বাদশার দোকানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন বাদল। তিনি আলতাফ হাওলাদারের ছেলে এবং জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী। বাদলের ভাই বাহাদুর মুন্সী জানান, বিকেলে বটিয়াঘাটায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে চক্রাখালী এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন বাদল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে তামান্না টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে নাসিম ট্রেডার্সের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সালমান। তিনি ক্যামেল সিগারেট কোম্পানির কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত সালমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাঁর কাছে থাকা একটি ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। খবর পেয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি বলেন, সালমানকে গুলি করার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সোহেল শেখ। তিনি ৭ নম্বর আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের সামনের পাকা সড়কে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন সোহেল। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশ ও বাইনতলা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে পিস্তলের এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোহেল পারভেজ ওরফে সোহেল শেখের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক এ ঘটনারও সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।



