স্থানীয় সংবাদ

আড়ংঘাটায় অসহায় ‘জরিনার’ চোখের দৃষ্টি ফেরাতে পাশে দাঁড়ালেন মিতুল

# মানবিক এ উদ্যোগ সর্বত্র প্রশংসা কুঁড়িয়েছে #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা হতদরিদ্র অসহায় জরিনা বেগম (৫২)। দারিদ্রতা, সংসারের অভাব অনটন, পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সুন্দর এ পৃথিবী দেখার একমাত্র অবলম্বন ‘চোখ’টি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তিনি দীর্ঘকাল অসহায়ত্বের সাথে দিন নিপাতিত করছিলেন। সুন্দর এ পৃথিবী দেখতে তিনি প্রতিনিয়ত বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছিলেন। অবশেষে তার চোখের অস্ত্রপচার করিয়ে চোখের দৃষ্টি পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরিয়ে দিতে তার পাশে দাঁড়ালেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রত্যাশী, শিক্ষা অনুরাগী ও সমাজ সেবক মতলুবুর রহমান মিতুল। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মানবিক নেতা মিতুলের নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় দরিদ্র জরিনা বেগমের চোখের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অসহায় এ নারীর জীবনে নতুন করে পূর্নাঙ্গরুপে পৃথিবী দেখার স্বপ্ন সঞ্চয় হয়, এ অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে। মানবিক নেতা মিতুলের এ মহৎ উদ্দেশ্য ও কর্মকা- এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ বিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা হান্নান মোড়ল বলেন, বিএনপি নেতা মিতুল ভাই একজন মানবিক মানুষ। তিনি এলাকার সকল মানুষের জন্য নিঃস্বার্থে কল্যাণমুখী কাজ করে যাচ্ছেন। বর্ষায় নৈশ প্রহরীদের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, রাস্তা সংস্কার, প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, অসহায় ভ্যানচালকদের ভ্যান প্রদান, জলাবদ্ধতা দূরকরণসহ নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড তিনিই প্রতিনিয়ত করেই চলেছেন। মানবিক কাজ হিসেবে তিনি সম্প্রতি সময়ে এক বয়স্ক নারীর দীর্ঘদিনের চোখের দৃষ্টির সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এমন নেতার সংস্পর্শে থাকাটা আমার জন্য গর্বের।
ওই এলাকার বাসিন্দা মানিক জানান, আড়ংঘাটা বাইপাস সড়কের মুখে প্রতিদিন ছোট বড় দূর্ঘটনা লেগেই থাকতো। মানবিক নেতা মিতুল ভাই নিজ অর্থায়নে সেখানে সংস্কারের কাজ করেন। এতে পথ সাধারণ মানুষ চরম উপকৃত হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর কোন সমস্যা শুনলেই, তিনি সেখানে ছুটে যান সমস্যার সমাধান করেন। তার এই গুণগুলো আমার খুব ভালো লাগে। গাইকুড় এলাকার বাসিন্দা আমিরুল জানান, ইমাম সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। বর্ষাকালে তার জরাজীর্ণ বাড়িতে প্রতিনিয়ত পানি পড়তো। ব্যক্তিগত অর্থায়নে মিতুল ভাই ইমাম সাহেবের বাড়ির সংস্কার করে দেন। এলাকার সামাজিক, এলাকাবাসীর ব্যক্তিগত যে কোন সমস্যায় তিনি পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তিনি কেবল একজন নেতা নন, একজন মানবিক মানুষ।
গাইকুর এলাকার বাসিন্দা এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল জানান, গেল বর্ষায় আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়ি। বাসার সামনে ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঘরের ভিতরে পানি ঢুকতো। বিএনপির নেতা মিতুল খবর শোনা মাত্রই নিজে দাঁড়িয়ে থেকে, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে ভরাট ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেন। এতে আমরা পানিবন্দী অবস্থা হতে মুক্তি পাই। আসলেই তার কর্মকা- প্রশংসানীয়।
সম্প্রতি চোখের অস্ত্রপচার হওয়া হতদরিদ্র জরিনা বেগম বলেন, আমার কেউ নেই। চোখে ঝাপসা দেখতাম, ঠিকমতো চলাচল করতে পারতাম না। মিতুল আমার রক্তের কেউ না, তবুও দীর্ঘদিনের আমার এই চোখের সমস্যার কথা শুনে সে এক মুহূর্তে বসে থাকেনি। আমার চোখের অপারেশন করিয়েছে। এখন আমি সুন্দর পৃথিবীটা চোখ মেলে দেখতে পারব। তার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করব, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখে। তিনি আমাদের মত অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে।
এ বিষয়ে থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রত্যাশী মতলুবুর রহমান মিতুল জানান, আমরা বইয়ে পড়েছি, মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। এই কথাটি আমার মনে লালন করে সব সময় চেষ্টা করি অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করার। আমি এমন একটি দলের কর্মী, যে দল দেশ, দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে। আমার নেতা বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার পিতা ও মাতা এদেশের আপমর মানুষের জন্য নিরলস কাজ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, এছাড়া আমার রাজনৈতিক অভিভাবক, জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ, খুলনার-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নির্দেশনা দিয়েছেন সর্বসময় মানুষের পাশে থেকে, তাদের দুঃখ-দুর্দশা নিরসনে কাজ করার জন্য। আমার প্রিয় সংগঠন ও প্রিয় নেতার এই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার চেষ্টা করি। ওই ধারাবাহিকতায় আমার এলাকায় সর্বক্ষণ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে আমি কাজ করি। কাজের উদ্দেশ্য কোন প্রাপ্তি নয়, মানুষের কল্যাণ ও তাদের ভালোবাসায়। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই, সহযোগিতা চাই ভালোবাসা চাই। তাদের সন্তান, ভাই বা আত্মার আত্মীয় হিসাবে জনস্বার্থে কাজ করতে চাই। এটাই আমার অঙ্গিকার, এই অঙ্গিকার বাস্তবায়ণে আমি বদ্ধপরিকর। বলা বাহুল্য, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন এলাকার তার নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের নানামুখী সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকা-ের কার্যক্রম থেমে থাকেনি, ইমামের জনাজীর্ণ ঘর সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, অসহায় ভ্যানচালকদের ভ্যান প্রদান, পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার, ভারী বৃষ্টিতে নৈশ প্রহরীদের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলার সামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা প্রদানে আর্থিক সহয়তাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সহায়তাসহ নানাবিধ কর্মকা-ের কারণে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ তাকে আজ মানবিক নেতা হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button