৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; জনগণের দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ

# ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেসব্রিফিং #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ ১১ দলের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহবায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, লংমার্চ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবর লংমার্চ উপলক্ষে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরের (শিববাড়ী) পথসভায় লক্ষাধিক এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে ইনশাআল্লাহ। তিনি প্রেসব্রিফিংয়ের শুরুতেই এই ঐতিহাসিক লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে নগরবাসী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ হতে পারে, এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে অগ্রীম তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে খুলনা মহানগরীর ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিবাবাড়ী) ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সফল করতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য খুলনার উদ্যোগে এ প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যো বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহবায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি এডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মো. রাশেদ, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, এনসিপির ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল, ডা. মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল খালেক শিকদার, খালিদ সাইফুল্লাহ, মো. মনির হোসেন, গাজী শরিফুল ইসলাম (ওহিদ), নূরুল আলম নূর, মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজী (আরিয়ান), মোছাম্মদ জাকিয়া আক্তার, ছাত্রশিবির নেতা আব্দুর রশীদ, জামায়াত নেতা নাসিম মোল্লা প্রমুখ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। আমরা আন্দোলন করছি, পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, খুলনার মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কখন কোথায় বোমা বিস্ফোরণ, গুলি কিংবা হত্যাকা- ঘটছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে কেন লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হচ্ছে, সেটিও সরকারের জন্য প্রশ্ন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে জনঅসন্তোষ বাড়বে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দায়িত্ব সরকারের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার ব্যর্থ হলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। এসব দাবিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, গণভোটে প্রাপ্ত গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, জনদুর্ভোগ নিরসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।
প্রেসব্রিফিং এ নেতারা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের পর সহজে জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি তুলে ধরলে পুলিশ জানিয়েছে, মামলা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত উপস্থাপনে ঘাটতি থাকায় আসামিরা জামিন পেয়ে যান। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
১১ দলের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহবায়ক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আরও জানান, ঐতিহাসিক এ লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ২৬৬ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের পর সকাল ৮টায় গাড়িবহর যাত্রা করবে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর এবং সোয়া ২টার দিকে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে পথসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হবেন। পরে গাড়িবহর যশোরের মুরলী মোড়, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা করে কুষ্টিয়ায় বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের এই তৃতীয় দফা সমাপ্ত ঘটবে ইনশাআল্লাহ। এখানে প্রধান অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।
প্রচার-প্রচারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বরেন, লংমার্চের বার্তা গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারের অংশ হিসেবে আকর্ষণীয় পোস্টার, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কুদির বটতলা, রূপসা সেতু, জিরো পয়েন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, গল্লামারী, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, বৈকালী, নতুন রাস্তা, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি, আফিস গেট, ফুলতলা থানাসহ ২০টি সুদৃশ্য তোরণ তৈরি করা হয়েছে, যা লংমার্চের পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
মঞ্চ নির্মাণের প্রস্তুতি তুলে ধরে মাহফুজুর রহমান বলেন, পথসভা সফল ও সুন্দর করার লক্ষ্যে মূল পথসভাস্থলে ৪৫/২৪ বর্গফুট বিশাল আকৃতির একটি মঞ্চ নির্মাণের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথি, সাংবাদিকবৃন্দ এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে, চমৎকার সাউন্ড সিস্টেমের সুব্যবস্থা রাখতে দুই শতাধিক হর্ন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শৃঙ্খলা বিভাগ ও নিরাপত্তা ব্যাপারে তিনি বলেন, আসন্ন এই সমাবেশকে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সুগঠিত শৃঙ্খলা বিভাগের অধীনে বিপুল সংখ্যক নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সমাবেশস্থলে আগত সাধারণ মানুষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর থাকবেন। পাশাপাশি, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পার্কিং পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, লংমার্চ চলাকালীন সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ রাখতে এবং যেকোনো ধরনের যানজট এড়াতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগত প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ও পৃথক পার্কিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সুচারুভাবে পরিচালনা করতে স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। যানবাহনগুলোর পার্কিং ও চলাচলের সুবিধার্থে মূলত তিনটি প্রধান স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে: জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনীর মাঠ, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ুরী আবাসিক এলাকা।
তিনি সাংবাদিক ও নগরবাসীর কাছে সহযোগীতা কামনা করে বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ-এর এই পথসভা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং ঐতিহাসিকভাবেই সফলভাবে সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। এই মহতী উদ্যোগকে সফল করে তুলতে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকর্মী এবং খুলনার সর্বস্তরের সম্মানিত জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।



