খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির তিন বছরের কমিটি চলছে ১০ বছর

# চার দফা কমিটি গঠন হলেও নির্বাচন হয়নি মার্কেটে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির তিন বছরের কমিটি চলছে প্রায় ১০ বছর। ক্ষমতায় থেকেও স্ব¦স্তিতে নেই নেতারা। তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করতে চার দফা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও নানা ষড়যন্ত্রে তা বন্ধ হয়ে যায়। হতাশা হয়ে নেতারা নির্বাচনের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরলে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এতে করে মার্কেট পরিচালনা করতে নানা সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে কমিটি কার্যকরি পদক্ষেপ সেভাবে নিতে পারছে না। গত কয়েক বছর ধরে মার্কেটের শতাধীক ব্যবসায়ী অস্থায়ী ভাবে সড়কের ওপর বসে কস্ট করে তাদের পণ্য বেচাকেনা করছে। নির্মানাধীন মার্কেট তৈরী শেষ হলেও নানা সংকটে তা হস্তান্তর হচ্ছে না। কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন নির্বাচনের জন্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজানকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হলেও তারা নানা চক্রান্তে নির্বাচন শেষ করতে পারেনি। এরপর নতুন সরকার গঠন হলে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবুকে প্রধান করে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এনারাও মাঝ পথে থেমে যায়। এরপর বাজার কমিটি সমাজসেবা অফিসের সহায়তায় আবারো নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তারা নির্বাচন দিয়ে যেতে পারেনি। বাজার কমিটি আবারো নির্বাচনের দাবিতে হুইপ বকুল সাহেবের নিকট যান। এ সময় বকুল সাহেব গত ২/৩ মাস আগে চতুর্থ দফায় আবারো নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে দেয়। ওই কমিটি নির্বাচন দেয়ার ব্যাপারে কার্যকরী কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। চরম হতাশায় ভুগছে ভোটার ও বর্তমান কমিটির নেতারা। বর্তমান কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম আদু বলেন, গঠনতন্ত্রে প্রত্যেক তিন বছরে একবার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, বারবার প্রচেস্টা সত্ত্বেও, এই মার্কেটে নির্বাচন হয় না । প্রায় এগারো বছর, যা অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থারই নামান্তর। সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য বিষয়টি লজ্জারও । তার চাইতেও বড়কথা এতে সংগঠন ক্রমশ দূর্বল হয়, নেতৃত্বের প্রতি সদস্যদের অনাস্থা, আনুগত্যহীনতা, অবাধ্যতা প্রকাশ পায়। সংগঠনের আওতাধীন সকল ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা,বিশৃঙ্খলার চুড়ান্ত রুপ দৃষ্টিগোচর হয়। যা ইতিমধ্যে খালিশপুর পৌরসুপার মার্কেটে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার প্রমান এই মার্কেটে ক্রেতা সমাগম কম হওয়া। মার্কেটের পন্যের দাম, গুনগত মান, বিক্রেতার আচরন, ক্রেতা সন্তুষ্টি, সর্বোপরি ব্যবসায়িক পরিবেশ ঠিক রাখতে হলে কার্যকর ও গতিশীল কমিটির প্রয়োজন। যা বর্তমানে এই মার্কেটে প্রায় অনুপুস্থিত। কাজেই এই অঞ্চলের সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে মাননীয় এম পি আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল ভাই ও সিটি করপোরেশনের মাননীয় প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ, এই মার্কেটে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে একটা কার্যকর কমিটির মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী মার্কেটটি বাঁচান, মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করুন। সমিতির সাঃ সম্পাদক রাফেল ফেরদৌস রানা বলেন, “আমরা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। সে জায়গা থেকে মার্কেটের নির্বাচনের দাবিতে চার দফা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কেউই নির্বাচন দিয়ে যেতে পারছে না। আমরা যে নির্বাচন চাই তার বড় প্রমাণ হলো চার চারবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন। এই মার্কেটে ভোটার ৪৭৭ জন। নির্মানাধীন মার্কেট হস্তান্তর না হওয়ায় শতাধীক ব্যব্সায়ী দীর্ঘ দিন সড়কের ওপর বসে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে কোনভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। তাদের কস্টের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে নতুন মার্কেট ব্যবসায়ীদের নিকট হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে অবিলম্বে মার্কেটের নির্বাচনের দাবি জানাই। নতুন কমিটি না আসায় পুরাতন কমিটি নানা সমস্যা ফেইজ করছে। মার্কেটের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সর্ব শেষ কমিটির সদস্য ও ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফারুখ হিল্টন বলেন, মার্কেটের নির্বাচন শেষ করার ব্যাপারে বকুল সাহেব তাগিদ দিয়েছে। কেন যেন কমিটি তেমনভাবে এগুচ্ছে না। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে মার্কেটটি পরিচালনা করতে নির্বাচন খুবই প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের জুন মাসে এ মার্কেট সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে আর কোন নির্বাচন হয়নি। এতে করে সব কিছুই স্তবির হয়ে পড়েছে।



