তাঁতশিল্পের সংকট: সিন্ডিকেটের কবলে লাখো তাঁতির ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে, কিন্তু সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রকৃত উন্নতি আজও অধরা রয়ে গেছে। বিশেষত দেশের ৬০ লাখ তাঁতির জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাঁতশিল্পকে রক্ষার জন্য গঠিত বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের কার্যক্রমেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসেনি। বরং বোর্ডটি পুরনো আওয়ামী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বেই চলছে, যা এই শিল্পকে আরও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিভাগীয় তদন্ত কমিটির দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে তাঁত বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার কামনাশীষ দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও, নেপথ্যে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। সিন্ডিকেটের নির্দেশেই বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন বোর্ডের সদস্য (যুগ্মসচিব) দেবাশীষ নাগ। দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটের প্রভাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও উপেক্ষিত হচ্ছে। জাতীয় তাঁতি সমিতির অ্যাডহক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সিন্ডিকেটের প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। তাঁতী লীগ নেতা ও দুর্নীতিবাজ জাহিদুল ইসলামের কারণে সাধারণ তাঁতিদের জন্য সুতা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অসংখ্য তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে জাতীয় তাঁতি সমিতির কার্যকর কোনো কমিটি গঠন না হওয়ায় দেশের তাঁতশিল্প কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সিন্ডিকেটের কারণে তাঁতিদের জন্য সুতা আমদানি বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সদস্যরা নিজেরা এলসি খুলে ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা লুটে নিচ্ছেন। অথচ সরকার নির্ধারিত রেয়াতি দামে সুতা আমদানির জন্য তাঁতি সমিতির কয়েক শ আবেদন তাঁত বোর্ডে জমা পড়লেও গত আড়াই বছর ধরে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাঁত বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আবু আহমদ ছিদ্দীকী (অতিরিক্ত সচিব) সিন্ডিকেটের প্রভাব ভাঙতে পারছেন না। ফলে জাতীয় তাঁতি সমিতির প্রতিনিধিত্বকারী কমিটি গঠনের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যদি অবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙে কার্যকর জাতীয় তাঁতি সমিতির নেতৃত্বে সুতা আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা না হয়, তবে লাখো তাঁতির জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সরকার ও প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে তাঁতশিল্প তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে।
