সম্পাদকীয়

ব্যর্থতার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়

# হামে শিশুমৃত্যু #

হাম ও তার উপসর্গে শনিবার পর্যন্ত দেশে ২১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার পর্যায়ে না পৌঁছেই গ্রামগঞ্জের আরও কত শিশুর যে প্রাণ ঝরে গেছে, সে হিসাব গণনার বাইরেই থেকে যাবে। যেমনটা হয় চিরকাল। এসব শিশুর বাবা-মা, পরিবারে বুকভাঙা শোক, আহাজারি। আর হাজারো আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে অকূলপাথারে পড়ছেন অভিভাবকরা। হাসপাতালে শয্যা, চিকিৎসক, ওষুধপথ্য, স্বাস্থ্যকর্মী সবই অপ্রতুল। আইসিইউ হাতেগোনা। এক থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেও সন্তানকে বাঁচানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না হতভাগ্য মা-বাবারা। অশ্রুভেজা ঘোলা চোখে দেখছেন বুকের ধনের না ফেরার দেশে পাড়ি দেওয়া। কিন্তু এর দায় কার? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সম্মেলনে কঠিন ভাষায় বলেছেন, সারা দেশে শিশুদের সময়মতো হামের টিকা না দেওয়া-বিগত দুই সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা এবং ক্ষমাহীন অপরাধ। তাদের চরম দায়িত্বহীন উদাসীনতা নিষ্পাপ শিশুদের অসুখের যন্ত্রণা এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, আর কখনোই যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিগত দুই সরকারের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তোলা অত্যন্ত যৌক্তিক। এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে অবশ্যপালনীয়। প্রশ্ন তুলতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আমলাদের ভূমিকা নিয়েও। সরকারের প্রধান নির্বাহী বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। তবে সব ব্যর্থতা যদি তাদের ঘাড়েই চাপাতে হয়, তাহলে জনগণের টাকায় এত কর্মকর্তা-কর্মচারী পোষার অর্থ কী? সময়মতো শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ার দায় থেকে স্বাস্থ্য খাতের বড় কর্তারা দায়মুক্তি পাবেন কোন বিচারে? তারা হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন কেন? পূর্বনির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ কর্মসূচির প্রতি ঊর্ধ্বতনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি কেন? এসব উচিত প্রশ্ন তোলা হয় না বলেই ব্যর্থতার অংশীদাররা আলোচনার বাইরে থেকে যায়। গোটা দায়টা বর্তায় সরকারের ওপর। এখন যেমন জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অনেক অনিবার্য সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে নবীন সরকারকে। সব ক্ষেত্রেই যৌক্তিক-অযৌক্তিকের বিবেচনাটা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিতে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি রোধ সম্ভব হয়েছে। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সার্বিক চিকিৎসাসক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনাকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button