সম্পাদকীয়

দর-কষাকষির সুযোগ নিতে হবে

# ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতি #

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক বিশ্ববাণিজ্যে এক অস্থির অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এই রায়ের ফলে আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যত বাতিল হয়ে গেলেও পরে নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সব দেশের ওপর আবারও ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশকে তা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ। আর তার প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। বাংলাদেশের ওপরও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। আগের ১৫.১ শতাংশ যোগ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫.১ শতাংশ।
এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চাপ কাটাতে অন্তর্র্বতী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানা ধরনের চুক্তি করে। এতে পাল্টা শুল্ক ২০ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪.১ শতাংশ। তবে মার্কিন তুলায় পণ্য বানিয়ে তা রপ্তানি করলে শুল্ক শূন্য করারও আশ্বাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিযোগী কিছু দেশে এই শুল্কের পরিমাণ বাংলাদেশের চেয়ে কম থাকায় তারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছিল। আদালতের রায়ে আগের শুল্কারোপ বাতিল হওয়া এবং নতুন করে সব দেশের জন্য সমান শুল্কারোপ হওয়ায় বাংলাদেশকে শুল্কবৈষম্যের শিকার হতে হবে না। কিন্তু বাংলাদেশকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যেতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মাশরুর রিয়াজ মনে করেন, মার্কিন আদালতের রায়ের ফলে আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সব দেশের ওপর আবারও ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষিতে যাওয়া বেশি বাস্তবসম্মত হবে। নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তিগুলো নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের ফলে যদি সংশ্লিষ্ট কোনো বাণিজ্যব্যবস্থা বা শুল্ককাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। এই বাজার রক্ষায় আমাদের কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা আশা করি, নতুন সরকার পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button