গণহত্যার দায় থেকে যাবেই

# একাত্তরের সেই ভয়াল কালরাত #
পঁচিশে মার্চ, একাত্তরের সেই ভয়াল কালরাতের স্মৃতি এখনো আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। এই রাতেই ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালিদের ওপর ট্যাংক, কামান, মেশিনগান নিয়ে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল রাতভর। সেই রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় যে গণহত্যা শুরু করেছিল, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসজুড়ে সারা দেশেই তা চালিয়ে গেছে। লাখ লাখ বাঙালি নিহত হয়েছে। নিহত হয়েছে গুলি, বেয়নেট, বুটের আঘাতে। নিহত হয়েছে পালিয়ে বেড়ানোর সময় পথের কষ্টে, অনাহারে, অসুস্থতায় বিনা চিকিৎসায়। সেই শহীদদের স্মরণে এই দিনটিকে আমরা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক বাণীতে বলেছেন, ‘আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনের কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও তৎকালীন ইপিআরের অসংখ্য সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, অগণিত নিরপরাধ মানুষ গণহত্যার নির্মম শিকার হন। আজকের এই দিনে আমি সব শহীদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি, তাঁদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে বলেছেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি।’ একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।’ গণহত্যার প্রথম ধকল কাটিয়ে উঠে বাঙালিও ঝাঁপিয়ে পড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরাজয় মেনে নেয়। পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার স্বার্থে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আত্মসমর্পণকারী ৯৫ হাজার পাকিস্তানি সেনাকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের কাছে। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, যুদ্ধাপরাধের দায়ে চিহ্নিত ১৯৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার পাকিস্তানের আদালতে করা হবে। পাকিস্তান সরকারেরই নিয়োগ করা হামুদুর রহমান কমিশনের প্রতিবেদনেও তাদের অপরাধের স্বীকৃতি রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান তাদের বিচার না করে সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল তার অনেক প্রমাণ রয়েছে। পৃথিবীতে কোনো গণহত্যা লিখিত আদেশে না হলেও বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল জেনারেল রাও ফরমান আলীর লিখিত আদেশনামার ভিত্তিতে। ২৬ মার্চ যে ১৯ জন বিদেশি সাংবাদিককে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা প্রায় সবাই সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ৯ মাসজুড়ে প্রতিদিনই ছিল গণহত্যার নানা প্রতিবেদন। কাজেই গণহত্যার দায় অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
আজ সেই গণহত্যা দিবস। আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হবে। আসুন, আমরা সবাই একাত্তরে গণহত্যার শিকার বাঙালি শহীদদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
