নজিরবিহীন গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জার্মানিতে এবারের গরমে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে রেকর্ড করা হয়েছে দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্মঋতু। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলেও বিপর্যস্ত হয়েছে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা। সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মকালের শেষদিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) জানিয়েছে, এমন গ্রীষ্মকাল ও বৈরী আবহাওয়া দেশটিতে মানুষ আগে কখনো দেখেনি। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত জার্মানিতে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি। যা এখন পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে উষ্ণতর গ্রীষ্মকাল। জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) তাদের প্রতিবেদনে জানায়, এবার গরমের দিনও ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। দেশজুড়ে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে ছিল। প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রির বেশি। জুনের শেষ দিকে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাপপ্রবাহে মৃত্যু ১৫ হাজার ৮০০ ঃ রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) হিসাব অনুযায়ী, শুধু এ বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত জার্মানিতে অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন। ডিডব্লিউডি জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। এর কারণ হিসেবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া দীর্ঘ খরার প্রভাবও পড়েছে দেশটির অর্থনীতিতে। পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অনেক ফেরিও সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। পশ্চিম জার্মানির কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দাবানল। এদিকে প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও এবার রেকর্ড গরম পড়েছে। দেশটির ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ডে এবারের গ্রীষ্মকাল ছিল উষ্ণতম ঋতু। প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছিল।



