ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার পুরস্কার : ট্রাম্প

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরে যে দাবি করে আসছেন, তা আবারও সামনে আনা এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরির চেষ্টা হিসেবে তার এ ঘোষণাকে দেখা হচ্ছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, অতীতের নির্বাচন বা আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেউ ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলে এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও সাজা নিশ্চিত হলে, তথ্যদাতাকে ১০ লাখ ডলার দেওয়া হবে! এ পুরস্কারের অর্থ কোথা থেকে আসবে কিংবা কী প্রক্রিয়ায় তা দেওয়া হবে, তা জানাননি তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জয়ী হলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার মার্কিন নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে তিনি দাবি করে আসছেন, ওই নির্বাচনে তিনিই জয়ী হয়েছিলেন। তার এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই কম। এ ছাড়া ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিকত্বের শর্ত পূরণ না করে ভোট দেওয়া বেআইনি। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প আরও কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এ ছাড়া রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হলে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দূষিত পানির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া সাবেক সেনাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। ভোট জালিয়াতির তথ্যের বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণার এ সিদ্ধান্ত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।



