দিঘলিয়ায় মিল শ্রমিকের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলার চার্জশীট দাখিলের পর ধর্ষক আরো বেপরোয়া

ধর্ষক পরিবারের হুমকি ধামকিতে তটস্থ ভিকটিম পরিবার
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার দিঘলিয়ার চন্দনীমহল গাজীপাড়ায় মিল শ্রমিকের স্ত্রীকে ধর্ষণ ও পর্ণোগ্রাফী আইনে দায়েরকৃত মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ ধর্ষক এজাজুল গাজী (৩৫)কে আসামী করে এ চার্জশীট দাখিল করেন। আসামী সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে এলাকায় ভিকটিম পরিবারকে নানাভাবে ভয়-ভীতি ও হেনেস্থা করার চেষ্টা করছে বলে বাদীর অভিযোগ। এ ঘটনায় ভিকটিম গত ১৪ নভেম্বর দিঘলিয়া থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষক এজাজুল গাজীর বিরুদ্ধে গত ২৩ মার্চ ৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধীত ২০২০ তৎসহ ৮(১)/৮(২) পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মামলাটি বিচারাধীন। গত ৮ নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে ভিকটিম স্থানীয় স্টার গেট মনিরের দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে হালিম গাজীর বাড়ির সামনে পৌছালে ধর্ষক এজাজুল ও তার সহযোগিরা ভিকটিমকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। মামলা তুলে না নিলে ভিকটিমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম ধর্ষক এজাজুল, তার সহযোগি রহমত আলী, মশিয়ারের নামে জিডি করেছেন। ধর্ষক পরিবারের হুমকি ধামকিতে ভিকটিম পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ভিকটিম দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহল গাজীপাড়ার বাসিন্দা প্লাটিনাম মিল শ্রমিকের স্ত্রী। তার স্বামী অবসর যাওয়ার পর মিল থেকে ৬ লাখ টাকা পায়। এ বিষয়টি লম্পট এজাজুল গাজী জানতে পারে। সে প্রায় তার বাসায় গিয়ে টাকা ধার চায়। অবশেষে এজাজুল গাজীকে গত ১০ জানুয়ারি’২২ এক লাখ টাকা ধার দেন ভিকটিম। সে ওই এলাকার গাজীপাড়ার জাহাঙ্গীর গাজীর ছেলে। তার একটি মুদি দোকানও আছে। পরে সে পাওনা টাকা না দিয়ে ভিকটিমকে ঘুরাতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১২ মার্চ’২৩ রাত ৮টার দিকে লম্পট এজাজুল ভিকটিমকে মোবাইলে টাকা দেয়া হবে বলে তাকে বাড়িতে ডাকে। সরল বিশ্বাসে ভিকটিম এজাজুলের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে এজাজুল ভিকটিমকে ঝাপটে ধরে। ভিকটিম বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ সময় লম্পট ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। সে ভিকটিমের নগ্ন ছবি মোবাইলে তুলে রাখে। এ সময় ভিকটিম কান্নাকাটি করলে এজাজুল বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ করলে তার সপরিবারে হত্যা করা ও নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ভিকটিম ধর্ষকের বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে আসামি ও তার মা এবং স্ত্রী ভিকটিমকে অকথ্য গালিগালাজ করে এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। প্রাণ ভয়ে ভিকটিম ঘরের বাইরে আসা বন্ধ করে দেয়। এরমধ্যে আসামি ভিকটিমের স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে (১৫) ডেকে নিয়ে তার মায়ের নগ্ন ছবি দেখায় এবং বলে তোর মা যদি থানা পুলিশ করে তাহলে এই নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবো বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি ছেলে বাড়িতে এসে বলার পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিকটিম থানায় গিয়ে নিজে বাদী হয়ে এ ব্যাপারে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন এস আই তারেক। শেষ মূহুর্তে এসে তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই নিপুন ঘোষ। তিনি জানান, মামলার তদন্ত শেষে শুধু এজাজুল গাজীকে আসামী করে এ চার্জশীট দাখিল করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ চার্জশীট দাখিল করা হয়। বাদী জানান, চার্জশীট দাখিলের পর ধর্ষক এজাজুল আরো বেপরোয়া আচরণ করছে।



