হাসপাতালে নারী নিয়ে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে আটক দুই

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ সরকারী হাসপাতালে সুযোগ পেলেই অনৈতিক কাজ করত এমন অভিযোগ ছিল আগের থেকে তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। গেল সোমবার রাতে আবুনাসের হাসপাতালে ছাদের উপরে এক নারী ও পুরষ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আটক হয়েছে হাসপাতালটিতে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের হাতে। নাম প্রকাশ না শর্তে হাসপাতালটিতে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, গেল সোমবার রাতে নিয়মিত টহল হিসেবে হাসপাতালে যেতেই উপরের ছাদে দেখতে পাই একজন তরুণ ও তরুণী অসামাজিক কার্যকলাপ করছে । এমন সময়ে আমরা তাদের হাতে নাতে আটক করি। আটককৃত ছেলেটির নামঃ মোঃ নাহিদ তার বাড়ী হাউজিং বাজার এলাকায় ও তরুণী নাম কাজলী। এছাড়া এর আগেও কতিপয় কিশোরসহ নষ্ট মানুষেরা সুযোগ পেলে এসব অপকর্ম কাজ করত এমন অভিযোগে নজরদারি ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর। যেকারণে হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন হাসপাতালটিতে নিয়মিত সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষন, ২য় প্রবেশ ফটক বন্ধ করে দেয় পাশাপাশি দায়িত্বরত স্টাফ ও আনসার সদস্যদের আরও বেশি সতর্ক ও নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মন্টু বলেন, এতবড় হাসপাতালটিতে সন্ধ্যার পর থেকে নির্জন হয়ে আসে। আমরা প্রায় সময়ে দেখি তরুণ তরুণীরা হাসপাতাল চত্বরের এসে ঘোরাফেরা করে। আমাদের সন্দেহ হলে বা তাদের প্রশ্ন করলে বলে রোগীর স্বজন । আর আমাদের এত সময় নেই তাদের কথা যাচাই সত্যতা বাচাই করার মত। এছাড়া এসব সরকারী হাসপাতালে এ ধরনের অনৈতিক কাজের কারনে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি নজরদারি করতে হবে। এ বিষয়ে শহীদ শেখ আবুনাসের হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন বলেন, গেল সোমবার রাতে একজন আনসার সদস্য আমাকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করে। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। অভিযুক্ত আটক তরুণ-তরুণী প্রাথমিক ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে । আমি তাৎক্ষনিক বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় খলিশপুর থানা পুলিশকে অবহিত করি। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আবুনাসের হাসপাতালে তরুণ ও তরুণী অনৈতিক কার্যকলাপ করার সময়ে নিরাপত্তার কাজে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আটক করে। ঘটনাস্থলে আমরা এসে তাদের থানা হোফজতে নিয়ে আসি। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে মোঃ রিয়াদ ও তরুণী কাজলির সাথে কোন প্রেমের সম্পর্ক না মেয়েটিকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে আসে। তারা আবু নাসের হাসপাতালটি নির্জন নিরাপদ ভেবে প্রবেশ করেছিল। এক পর্যায়ে তারা অনৈতিক কাজ করার সময়ে আটক হয়। গতকাল ২৯০ ধারায় আমরা তাদেরকে কোর্টে প্রেরণ করেছি।


