স্থানীয় সংবাদ

খুমেক হাসপাতালে বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স রাখা ও দালাল কর্তৃক রোগীদের হয়রানী বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সম্মুখে বহিরাগত অ্যাম্মুলেন্স অবৈধভাবে রাখা ও হাসপাতালের অন্তবিভাগ ও বহিবিভাগে দালাল কর্তৃক রোগীদের হয়রানী বন্ধের জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থ্ াগ্রহনের জন্য হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক একটি চিঠি দিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর ভিজিটরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের বাউন্ডারীর ভিতর ও জরুরি বিভাগের সামনে বাহিরের ১২টার পর অ্যাম্বুলেন্স রাখছে এবং তাদের বারবার বলা সত্বেও অ্যাম্বুলেন্স বাহিরে বের করে না। যার ফলে হাসপাতালে আগত জরুরী রোগী আনা নেওয়া ও ডাক্তারদের গাড়ি আসা ও যাওয়ার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাহিরের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভাররা হাসপাতালে আগত রোগী, রোগীদের এ্যাটেন্ডেন্ট ইন্টার্ণী চিকিৎসকসহ ট্রেনিংয়ে থাকা নার্সিং স্টুডেন্টদের সাথে অশোভন আচরন করেন। তাছাড়া মেডিকেল কলেজ, খুলনার সামনে অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্যান্য গাড়ি রাখায় কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেহেতু বহিরাগত অ্যাম্মুলেন্স হাসপাতাল বাউন্ডারির ভিতর থেকে জরুরিভাবে বের করা প্রয়োজন। তাছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তবিভাগে আগত রোগীরা বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সীমিত জনবল দ্বারা সামগ্রীকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেহেতু হাসপাতালের বাউন্ডারের ভিতর ও জরুরি বিভাগে সামনে থাকা বহিরাগত অ্যাম্মুলেন্স বের করার ব্যবস্থাসহ হাসপাতালের আগত দালালদের বিষয়ে মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহনের বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: মো: হুসাইন সাফায়ত বলেন, আমরা বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স বের করার জন্য অনেক বার বলেছি, তার পরেও সরানো যাচ্ছে না। এছাড়া দালালের উৎপাতও বেড়েছে এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন।
জানা গেছে, মুর্মুষু রোগী পরিবহনের মতো একটি সংবেদনশীল কাজ অ্যাম্বুলেন্স সেবায় খুলনা নগর ও উপজেলাগুলোতে চলছে নৈরাজ্য আর বাণিজ্য। সরকারি খাতে যেমন রয়েছে নানা অনিয়ম, তেমনি বেসরকারি খাতেও চলছে স্বেচ্ছাচার। একক ব্যক্তির মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স বৈধ নয়। এগুলোকে কোন না কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলাচল করতে হবে। কিন্তু এসব কোন কিছুরই তোয়াক্কা না করেই রোগী পরিবহনের মতো কোনো সুবিধা ছাড়াই সাধারণ মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে পথে নামিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তারা মানছেন না কোনো নিয়ম-নীতি। আর এগুলো চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। খুলনা সিটি ও উপজেলাগুলোতে বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশনকৃত বৈধ অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা ১০৬টি। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সামনে আছে ১০০-১২০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। আছে ব্যক্তি মালিকানাধীন নামে অ্যাম্বুলেন্স যা অবৈধ, আছে হাসপাতালে চাকুরিরত ব্যক্তির নামেও অ্যাম্বুলেন্স। এগুলোকে কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলাচল করতে হবে।” সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করার আগে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ’র) অনুমোদন লাগে। একইভাবে বেসরকারি খাতেও বিআরটিএ’র অনুমোদন ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর কোনো নিয়ম নেই। সরকারি বিধি অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের গাড়িতে রোগী ও চিকিৎসকের জন্য থাকতে হয় বিশেষ আসন বা শয্যা। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য থাকবে সচল অক্সিজেন সিলিন্ডার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামের বাক্স। রোগীর অন্তত একজন স্বজন বসার ব্যবস্থা থাকবে। তা ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই খুলনা জুড়ে চলছে সিংহভাগ অ্যাম্বুলেন্স। এর একটি বড় অংশ রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সামনে। এখানেই আছে প্রায় ১০০-১২০ টি অ্যাম্বুলেন্স। অধিকাংশই এ সব অ্যাম্বুলেন্সে নেই ফিটনেস। অনেকেরই একক ব্যক্তির মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এগুলোকে কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলাচল করতে হবে। কিন্তু এসব কোন কিছুই তোয়াক্কা না করেই। রোগী পরিবহনের মতো কোনো সুবিধা ছাড়াই সাধারণ মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে পথে নামিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। খুমেক হাসপাতালের সরকারি অনেক স্টাফদের ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এসব অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ লেখা থাকলেও আসলে বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। তবে কিছু অ্যাম্বুলেন্সের বিআরটিএ’র অনুমোদন রয়েছে।
খুলনা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বলছে বর্তমানে খুলনা জেলায় অ্যাম্মুলেন্স রয়েছে ১০৬টি। এর মধ্যে খুলনা সিটিতে আছে ১৩টি এবং জেলায় রয়েছে ৯৩ টি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) খুলনা সহকারি পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো: তানভির আহমেদ বলেন, “খুলনা সিটি ও জেলায় মিলে মোট রেজিস্ট্রেশনকৃত অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা রয়েছে ১০৬টি। লক্কড়ঝক্কড় অ্যাম্বুলেন্স ও অন্য যানকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করে কেউ কেউ এ ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স রোগীর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একক ব্যক্তির মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স বৈধ নয়। এগুলোকে কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলাচল করতে হবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button