স্থানীয় সংবাদ

দলীয় প্রতীক না থাকার ঘোষনায় রামপালে ইতোমধ্যে একঝাঁক প্রার্থী মাঠে

উপজেলা নির্বাচন-২০২৪

আজাদুল হক, বাগেরহাট ঃ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতিক না থাকার ঘোষনায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন এক ঝাঁক প্রার্থী। প্রতিদিনই প্রার্থীরা এলাকাভিত্তিক ভোটারের কাছে ছুটে চলেছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করছেন। দোয়া ও অশির্বাদ চাইছেন। অতিউৎসাহ নিয়ে স্ব ঘোষিত এসব প্রার্থীরা ভোটারদের চাঙ্গা করাসহ ভোট উৎসব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে প্রচার পাচ্ছে। চা এর আড্ডা থেকে চলাফেরার পথে সর্বত্র আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে যদি দলীয় প্রতিক ছাড়া ভোট হয় তাহলে কে হবেন রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক নৌকা মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এবার ভোটাররাই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থান করছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষনামতে এবার ৪ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হবে ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে এবং চতুর্থ (শেষ) ধাপের ভোট ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। রামপাল উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে যে, প্রথম ধাপে রামপাল উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও কোন লিখিত নির্দেশনা আসেনি। এদিকে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রামপাল উপজেলা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম প্রচার পাচ্ছে তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্লা আব্দুর রউফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জামিল হাসান জামু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আবু সাঈদ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল মান্নান, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ নুরুল হক লিপন, উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ ফকির, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান তরফদার মাহফুজুল হক টুকু এবং হুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তপন কুমার গোলদারও এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিযোগিতা করার ঘোষনা দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের বাইরে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা নির্দলীয় কোন প্রার্থীর নাম এখনও শোনা যায়নি। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রামপাল ও মোংলার জনপ্রিয় নেতা ড.ফরিদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না পেলে বিএনপি দলীয়ভাবে কোন প্রার্থী দিবেনা এবং নির্বাচনে অংশ নিবেনা। রামপাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক একাধিক প্রার্থী এ প্রতিবেদক কে বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ থেকে কাউকে নির্দিষ্ট করে মনোনয়ন দেয়া হবে না, তাই এ বছর রামপাল উপজেলা থেকে একাধিক প্রার্থী অংশ গ্রহণ করতে পারে। কেউ কেউ বলছেন যে, একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা হবে এবং সাধারন ভোটাররা সহজে তার পছন্দের প্রার্থীকে বেঁছে নিতে পারবে। উপজেলা নির্বাচনে আসলে কত প্রার্থী মাঠে থাকবে, সে জন্য রামপালের জনগণকে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। দলীয় প্রতিক না থাকলে রামপাল উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে এবং জনগনের ভোটেই চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button