স্থানীয় সংবাদ

নগরীর দৌলতপুরে বাবাকে হত্যার দায় নিয়ে থানায় কিশোরী মেয়ে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর দৌলতপুর এলাকায় মৃত্যুর সাতদিন পর থানায় গিয়ে নিজেকে বাবার হত্যাকারী বলে দাবি করে মৌখিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মৃত ব্যক্তির ছোট মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির (১৬)। মৃত শেখ হুমায়ুন কবিরের (৫২) মেয়ে সুমাইয়া জানিয়েছেন, তার বাবাকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে তিনি। ১৪ জুলাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি প্রবির কুমার বিশ্বাস। শেখ হুমায়ুন কবির নগরীর দৌলতপুর থানার দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার নেসার উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা। থানায় আত্মসমপর্ণ করা কিশোরী তার ছোট মেয়ে। তাকে বর্তমানে কেএমপির সোনাডাঙ্গা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শেখ হুমায়ুন কবির ৫ জুলাই মারা যান। সকালে তার স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়েরা তাকে ডেকে তুলতে না পেরে নিশ্চিত হন যে তিনি মারা গেছেন। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন এসে তাকে দাফন করেন। কিন্তু সুস্থ লোক রাতে খাবার খেয়ে ঘুমের মধ্যে মারা যাওয়া এবং গোসলের সময় তার বাম হাতে দু’টো ছিদ্র দেখে কেউ কেউ সাপে কামড় বলে সন্দেহ করেন। এ অবস্থায় মৃতের ছোট মেয়ে সুমাইয়া ১২ জুলাই দৌলতপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। একই সঙ্গে বাবার মৃত্যুর জন্য নিজেই দায়ী বলে পুলিশকে জানান। এ বিষয়ে ওসি প্রবির কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সুমাইয়া পুলিশকে বলেছেন, সে তার বাবাকে হত্যা করেছে। রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট দিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে সুমাইয়া ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছেন।’ ওসি প্রবির কুমার আরও বলেন, ‘আমরা তার পরিবারের লোকজনকে ডেকেছিলাম। কেউ কেউ বলেছে সে মানসিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু তার বড় ভগ্নীপতির সন্দেহ হওয়ায় তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। রোববার তার বড় বোন মরিয়ম আদালতে গেছে। আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি বলে তিনি জানান। তবে মরিয়ম জানান, তার মন মেজাজ খুবই খারাপ তাই তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে নারাজ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button