দৌলতপুরে ব্যবসায়ী হুমায়ূনের লাশ উত্তোলন

কবর হতে লাশ উত্তোলনের ঘিরে এলাকার উৎসুক জনতার ভীড়
হৃদয় বিদারক এই ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ শোকাহত
স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর দৌলতপুর ৪নং ওয়ার্ডস্থ দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার আলোচিত ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উৎঘাটনের জন্য মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ^র মন্ডলের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থান হতে লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের পর ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্যবসায়ী হুমায়ুনের লাশ উত্তোলনের খবরে ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকা হতে উৎসুক জনতা সেখানে ভীড় জমায়। হৃদয় বিদারক এই ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ শোকাহত। একই সাথে এলাকাবাসী ব্যবসায়ী হুমায়ুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উৎঘাটন করে ওই ঘটনায় জড়িতদের প্রকৃত শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুলাই নারী ও শিশু আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তী মূলক জবানবন্দী প্রদান করে মৃত হুমায়ুনের ছোট মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির। স্বীকারোক্তীতে তিনি পানি ও খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে, অতঃপর বালিশ চাপা দিয়ে বাবাকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। আসামীর ভাষ্যমতে, হত্যার শিকার ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরের ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য গত, ২৪ জুলাই (বুধবার) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদেশ দেন। আদেশের কপি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো পর রবিবার (২৮ জুলাই) অত্র দপ্তর হতে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে পারিবারিক কবরস্থান থেকে হুমায়ূনের লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়না তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার কারণে লাশ খুমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ব্যাপারে ওই এলাকা বাসিন্দা শাকিল জানান, হুমায়ূন ভাই খুব ভালো ও নামাজী মানুষ ছিলেন। তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। সন্তান হয়ে পিতাকে হত্যা করা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তাছাড়া কবর হতে পুনরায় লাশ উত্তোলন করা খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা। এমন ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ শোকাহত। এব্যাপারে নিহত হুমায়ূনের চাচাতো ভাই এস.এম মঈনুল ইসলাম (মঈন) জানান, প্রথম হতেই মনে হয়েছে হুমায়ূন ভাইয়ের মৃত্যুটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। পরবর্তীতে তার মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির হত্যার দায় স্বীকার করার কারণে সন্দেহের অবসান হয়। আমার ধারণা তাকে (হুমায়ূন ভাই) কে হত্যার পেছনে কেবল সুমাইয়া জড়িত নয়, আরো কারো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তার হত্যার প্রকৃত কারণ উৎঘটন করে, ওই ঘটনায় সাথে সম্পৃক্তকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। হুমায়ুন ভাই খুব ভালো মানুষ ছিলেন, নিয়মিত নামায আদায় করতেন। তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এস.আই) মো. বদিউর রহমান জানান, ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরের ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য গত ২৪ জুলাই (বুধবার) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদেশ দেন। রবিবার (২৮ জুলাই) জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ^র মন্ডল স্যারের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের পর প্রাথমিক সুরাতহাল সম্পন্নের পর ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়না তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার কারণে লাশ খুমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ প্রবীর কুমার বিশ^াস জানান, ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ উৎঘটনের জন্য আদালতের আদেশে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের পর ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার কারণে লাশ খুমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
উলেখ্য, আসামীর ভাষ্যমতে গত, ৪ জুলাই দৌলতপুরস্থ দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকায় ছোট মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির পানি ও খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে, অতঃপর বালিশ চাপা দিয়ে পিতা হুমায়ুনের মৃত্যু নিশ্চিত করে। নিহত হুমায়ুনের মৃত্যুর ১২ দিন পর তার স্ত্রী ফারজানা আফরিন (৪১) বাদি হয়ে স্বামীকে হত্যার দায়ে ছোট মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবিরসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।


