শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে

# সপ্তাহের ব্যবধানে কমতে শুরু করেছে সবজি ও মাছের দাম #
# অর্ন্তবর্তী সরকারে কাছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনের দাবি সর্বস্তরের মানুষের #
মো. আশিকুর রহমান ঃ সারাদেশের ন্যায় খুলনার সড়কগুলোতেও ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন ছাত্র-জনতা। এই শিক্ষার্র্র্থীরা কেবল বিভিন্ন এলাকায় রাতে পাহারা বা রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের মধ্যে কেবল নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি, তারা সম্মিলিত ভাবে নগরীর বিভিন্ন বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য মনিটরিংও অব্যহত রেখেছে। জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধিসহ দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন বাজারে সবজিসহ মাছের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিগত সরকার দেশে জরুরী অবস্থা (কারফিউ) চালু করে, যে কারণে বন্ধ ছিল বিভিন্ন পরিবহন। কোটা সংস্কার আন্দোলন বা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উত্তাল ছিল সমগ্র দেশ। সারাদেশের মতো খুলনায়ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। ওই অস্থিতিশীল অবস্থায় বিভিন্ন বাজারে সবজিসহ মাছের সরবরাহ কমতে থাকে। তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগসহ দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে গঠন হয় অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। আস্তে আস্তে সারাদেশের ন্যায় খুলনায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কারণে পূর্বের তুলনায় নগরীর বাজারগুলোতে সবজিসহ মাছের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সবজি ও মাছের দামও।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) নগরীর দৌলতপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরণের সবজির দাম কেজিতে ৮/১০ টাকা করে কমেছে। অপরিবর্তীত রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আদাসহ বিভিন্ন প্রকার মশলার দাম, খাসি ও মুরগির দামও। তবে দৌলতপুরের গরুর মাংস বিক্রেতা বলছেন, প্রতিদিনই বাজারে শিক্ষার্থীরা আসছেন। গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রির কথা বলে গেছেন। যে কারণে তারা ৬৫০ টাকা করে গরুর মাংস বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০/৫৫ টাকা, বেগুন ৭০টাকা, পটল ৩০/৩৫ টাকা, ধুন্দল ৩০ টাকা, বরবটি ৫৫/৬০ টাকা, কুশি ৪০/৪৫ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, কচুর লতি ৫৫/৬০ টাকা, পেপে ৩৫/৪০ টাকা, ঢেড়শ ৪৫/৫০ টাকা, লাউ পিস ৪৫/৫০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, ওল ৭০ টাকা, খিরাই ৩৫ টাকা, জালি ৪০ টাকা, পুইশাক ৩০ টাকা, লালশাক ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বাজারে, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১’শ থেকে ১৩’শ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৫ থেকে ১৬’শ টাকায়। ৩/৫ পিস ওজনের ইলিশ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৫/৬’শ টাকায়। কমেছে পাতারি, টেংরা, ফাইস্যা, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিংড়িসহ বিভিন প্রকার দেশি ও সামুুদ্রিক মাছের দাম। সর্বনি¤œ মাছ বাজারে ১৮০/ ২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ। অন্যদিকে, দৌলতপুর বাজারে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংশ ১ হাজার টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৫০টাকা, সোনালি ও কক প্রতি কেজি ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু ৫৫ টাকা, পেয়াজ ১১০ ও রসুন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তীত রয়েছে চালের দাম।
দৌলতপুরে বাজার করতে আসা ক্রেতা ফারহানা ইয়াসমিন জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় অইেশ পণ্যের দাম কিছুটা দাম কমেছে। তবে এখানো নাগালের মধ্যে আসেনি। বিশেষ করে গত সপ্তাহের তুলনায় সমজির দাম প্রতি কেজিতে ১০/১৫ টাকা কমেছে। সবজি বিক্রেতা মিঠু জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সারাদেশের ন্যায় খুলনায়ও অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করে। ওই প্রভাব পরে বাজারের উপরও। বিভিন্ন বাজারে সবজি সরবরাহ কমতে থাকে। বর্তমানে সারাদেশের ন্যায় খুলনায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কারণে পূর্বের তুলনায় নগরীর বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। সবজি সরবরাহের দামও পূর্বের তুলনায় কমতে শুরু করেছে। এছাড়া প্রতিদিনই ছাত্ররা এসে বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছে। কোন সবজি কত দামে কেনা, কত দামে বিক্রি করছি খোজ খবর নিচ্ছে।
দৌলতপুর হোসেন মাংস ঘরের মাংস বিক্রেতা ফরহাদ হোসেন, প্রতিদিনই বাজারে ছাত্ররা এসে মাংস কতটা করে বিক্রি করছি জিজ্ঞাসা করছে। তারা ৬৫০ টাকা করে মাংস বিক্রির জন্য বলে গেছে। শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা অনুসারে আমরা ৬৫০ টাকা করে মাংস বিক্রি করছি। এতে খুব বেশি লাভের মুখ দেখছি না। কারণ হাটে গরুর দাম অনেক বেশি। অনেক জায়গায় এখনো সেই আগে দামে ৭০০/৭৩০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছে। রিক্সা চালক মো. শাহিন জানান, বাজারে সবজি সবজির দাম আহামরি কমেনি। তাছাড়া চাল, মাছ, মাংস সব কিছুর দাম অনেক বেশি। কেনার উপায় নেই। বর্তমানে যে সরকার আছে, তারা ভালোই কাজ করছে। এখন বাজারে জিনিস পাতির দাম একটু কমালে আমাদের মতো সাধারন মানুষ খুবই উপকৃত হবে। বাজার মনিটরিং কাজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী হাসিব বলেন, বাজারে অনেক অসংগতি রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। তারা এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। দৌলতপুর কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পলাশ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘীরে বিগত সরকার দেশে জরুরী অবস্থা (কারফিউ) চালু করে, যে কারণে বন্ধ ছিল বিভিন্ন পরিবহন। কোটা সংস্কার আন্দোলন বা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উত্তাল ছিল সমগ্র দেশ। সারাদেশের মতো খুলনায়ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। ওই অস্থিতিশীল অবস্থায় বিভিন্ন বাজারে সবজিসহ মাছের সরবরাহ কমতে থাকে। তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগসহ দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে গঠন হয় অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। আস্তে আস্তে সারাদেশের ন্যায় খুলনায় ও এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কারণে কারণে পূর্বের তুলনায় নগরীর বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সবজির দাম। বাজারে আসা সাধারন ক্রেতারা, দিনমুজুর, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষেরা অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনের দাবি জানিয়েছেন।


