স্থানীয় সংবাদ

খুমেক হাসপাতালের ক্যাশিয়ার আলিমুজ্জামান বেপরোয়া

ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাশিয়ার নামধারি আলিমুজ্জামানের দৌরাত্ম থামছেনা। জানাযায় ২০০৩ সালে অফিস সহায়ক পদে যোগদান করলেও এখন তিনি হাসপাতালটির ক্যাশিয়ার আবার কখনও নিজেকে ওয়ার্ড মাস্টার হিসেবে দেন পরিচয়। সাম্প্রতিক সময়ে খুমেক হাসপাতালে ১০০ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের মেয়াদ বাড়িয়ে আনার ঘুষ হিসেবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসের সাথে ২০ লাখ টাকা চুক্তি হয় যার মধ্যে ঠিকাদারের কাছ থেকে নিজে ৫লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন এমন একটি চুক্তি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে যেখানে তার নিজ হাতে লেখা ও নিজের স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে। তবে, কাজ না পেয়ে এখন হতাশাগ্রস্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হেমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, এর আগে খুমেক হাসপাতেলর ক্যাশিয়ার আলিম বিভিন্ন তালবাহানা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। নিজের ইচ্ছামত জনবল নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ ১০০ জন কর্মচারী নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। আমাকে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে আমার ঘনিষ্ট লোক আছে আপনি ২০ লাখ টাকা আমাকে দেন আমি মেয়াদ বাড়িয়ে আনছি। আমি তখন দেখলাম ১০০ জন কর্মচারীর চাকুরী শেষ হলে তারা গরীব মানুষ সমস্যায় পড়বে। আমি গরীব কর্মচারীদের কথা ভেবে তার কথায় রাজি হলে সে প্রথম ধাপে নেয় ৫ লাখ টাকা যেখানে তার নিজ হাতে লেখা ও সীল স্বাক্ষর আছে। এরপর বিভিন্ন তালবাহানা করে আরও ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর যখন কাজ হয়না আমি টাকার চাপ দিলে আমার নামে অনপুমমন্ডল নামে একজন কর্মচারীকে উস্কিয়ে দিয়ে মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা করে। যেন আমি টাকা ফেরৎ চাইতে না পারি। এছাড়া জনাযায় এর আগেও ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। যার প্রেক্ষিতে তৎকালিন খুমেক হাসপাতালের পরিচাল ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ তাকে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করে। তবে তিনি সাবেক এক সংসদ সদস্যের বিশেষ সুপারিশে আবারও খুমেক হাসপাতালে বদলি হয়ে চলে আসেন। এরপর থেকে তিনি হয়ে উঠেন আরও বেপরোয়া। আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ বাণিজ্যসহ হাসপাতাল হতে বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ। এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের কর্মরত আলিমুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল কুৎসা রটনা করছে। আমি কারোর কাছ থেক কোন অর্থ নেই। আমি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রতিবাদ জানিয়েছি। এসব অভিযোগ মিথ্যা। এ বিষয়ে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ মনজুরুল মুরশিদ বলেন, আমি মৌখিক ভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button