ঘূর্ণিঝড় ডানা’ আতঙ্কে উপকূলীয় বাসিন্দারা : হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ

শেখ ফেরদৌস রহমান: সম্ভাব্য বিভিন্ন সময়ে ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় খুলনা উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা থাকেন আতঙ্কে। এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে নি¤œ চাপটি ঘূর্ণিঝড় ডানা, আঘাত হানতে পারে। বরিশাল, খুলনা উপকূলীয় অঞ্চলে। পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় উত্তর অক্ষাংশ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭০০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রর ৪৮ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘন্টায় ৬০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। তাছাড়া এর আগেও বেশ কয়েকবার ছোট নি¤œ চাপ আর অতি বৃষ্টির কবলে পড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িভাধ ভেঙ্গে ঘরবাড়ী সহ পানি বন্দি হয়ে পড়েছিল উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার, হাজার বাসিন্দারা। উপকূলীয় অঞ্চলের বটিয়াঘাটা, দাকোপ, কয়রা বাসিন্দাদের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মানে একটি আতঙ্ক নাম। তাছাড়া বেশ কয়েকবার ঘূর্ণিঝড়ের বেড়িভাধ ভেঙ্গে দাকোপ, কয়রাসহ তিলডাঙ্গা পানখালী, কালাবগিসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তিতে স্থানীয় এলাকাবাসিদের প্রচেষ্টোয় বেড়িবাধ সংস্কার করলেও আসছে বিভিন্ন ঘুর্ণিঝড় নিয়ে রয়েছে জনমনে চরম আতঙ্ক। কয়রা বেদকাশি এলাকার বাসিন্দা অরবিন্দ বলেন, এর আগে বেশ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় সহ নি¤œ চাপ হওয়াতে হঠাৎ বেড়িবাধ ভেঙ্গে যায় পানির ¯্রােতে ঘরবাড়ীসহ ফসলী ক্ষেত গুলোতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয় । আমারা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। বিশেষ করে যেকোন সময়ে বেড়িভাধ ভেঙ্গে যেতে পারে। আর এই বেড়িভাধ ভেঙ্গে একবার পানি প্রবেশ করলে এই নোনা পানির থেকে মুক্ত হতে অনেক সময় ভোগান্তির বিষয় পাশাপাশি আমাদের অনেকের মৎস ঘের রয়েছে, বিভিন্ন সবজির ক্ষেত, গুরু, ছাগলসহ ঘরবাড়ী বিলিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া প্রতিবছর সরকার কোটি, কোটি, টাকা খরচ করে বেড়িবাধ তৈরি করলেও পানির ¯্রােতের কাছে তা উড়ে যায়। এসব বেড়িবাঁধ তৈরির জন্য যেসব ঠিকাদার কাজ করেন তারাও দ্বায়সারা বেড়িভাধ তৈরি করে চলে যায়। দাকোপ কালাবগি এলাকার বাসিন্দা আমীর আলী বলেন, আমরা প্রতি বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে মোকাবেলা করি। আমরা এর থেকে বাঁচতে দীর্ঘস্থায়ি সমাধান চাই সরকারের নিকট। আমরা উপকূলীয় বাসিন্দারা যেমন পানির কষ্টে থাকি ঠিক তেমনই বছরের কয়েকটা ঘূর্ণিঝড়ে নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ী হারিয়ে যায়। মূলত জরাজীর্ণ বেড়িবাধ সামান্য ¯্রােতে ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা তো জীবন বাঁচানোর জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারবো কিন্তু এত কষ্টের ঘর বাড়ী ফসলী জমিতে নোনা পানি সহ বিভিন্ন সমস্যা হবে যে কারনে প্রতিবছর এমন আতঙ্ক থেকে বাঁচতে বিকল্প ব্যবস্থা আশা করছি। এদিকে খুলনা আবহাওয়া অফিস এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, গভীর নি¤œ চাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ নামে আতœপ্রকাশ করেছে। ৪৮ কিঃমিঃ এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কিঃমিঃ যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘন্টায় ৬০ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার রাত্র থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঝড় হতে পারে। এছাড়া আজ সন্ধার থেকে বৃহস্পতিবার সরাদিন বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাস বয়ে যাবে। গভীর সমুদ্র থেকে জেলেদের নিরাপদে চলে আসতে বলা হয়েছে।


