স্থানীয় সংবাদ

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া খুলনার ইনমাস

অভিযোগের তীর পরিচালক ডা. ঝর্ণা দাসের বিরুদ্ধে
একই প্রতিষ্ঠানে ১৯ বছর

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এ্যালায়ড সায়েন্স (ইনমাস) প্রতিষ্ঠানটিকে সকলে পরমানু ল্যাব হিসেবে চিনেন। প্রায় ৩ বছর এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ডাঃ ঝর্ণা দাস। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা লিখিত অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে দিলেও সেই অভিযোগের তদন্ত কখনও আলোর মুখ দেখেনি। বরং বহাল তবিয়তে ঝর্ণা দাস নানা অনিয়ম করে যাচ্ছে বলে জানান অভিযোগকারিরা।
তবে, অনিয়ম-দুর্র্নতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও ডাঃ ঝর্ণা দাস একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে দীর্ঘ টানা ১৯ বছর কর্মরত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে দালালচক্র ভেঙ্গে দেওয়া এবং নিয়ম-শৃংখলা ফিরিয়ে আনায় অফিসের একটি চক্র তার বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরমানু কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর গত ৪ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ করেন ইনমাস খুলনার কারিগরি কর্মকর্তা জাকারিয়া আলম এবং তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল ইসলাম। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইনমাস খুলনার দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারিত প্রিন্টারে এইচপি ব্রান্ডের কালির টোনার ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে নি¤œমানের চায়না কালির টোনার ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি এইচপি ব্রান্ডের টোনারের দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মধ্যে। অথচ চায়না টোনারের মূল্য মাত্র ৭/৮শ’ টাকা। প্রতিটি টোনার থেকে ৪ হাজার টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০০৩ সাল থেকে প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান অদ্যবদি টোনারের টাকা এভাবেই হাতিয়ে নিচ্ছে। এ যাবৎ কাল টোনার কেলেংকারীতে লক্ষ লক্ষ টাকা মাহবুব কৌশলে লোপাট করলেও তা সামনে আসেনি। কথায় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই ষান্মাষিক ভান্ডার নিরীক্ষা কমিটি কর্তৃক স্টোর অডিট করার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। এ বিষয় পরিচালক ঝর্ণা দাসকে অবগত করলেও প্রকৌশলী মাহবুবের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি, উল্টো অভিযোগকারীদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, এর আগে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইনমাস খুলনায় কর্মরত ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি অভিযোগ দেন পরিচালক ঝর্ণা দাসের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরিচালক ঝর্ণা দাস এখানকার অফিস স্টাফদের গালিগালাজসহ অশোভনীয় ব্যবহার করেন। এছাড়া ওই অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন কর্মচারিদের মানসিক চাপে রাখেন, সামান্য বিষয় নোটিশ করেন এবং জরুরী মহুর্তে ছুটির প্রয়োজন হলে ছুটি মঞ্জুর করেন না এই পরিচালক । একের পর এক অভিযোগ পরিচালক ঝর্ণা দাসের বিরুদ্ধে করলেও ঝর্ণা দাস বিষয়গুলো থোড়াই কেয়ার করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনার ইনমাস-এ দুইতলা সু-সজ্জিত রেস্ট হাউজ রয়েছে। ওই রেস্ট হাউজে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারিরা থাকতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে থাকার নিয়ম। তবে পরিচালক ঝর্ণা দাসের আস্থাভাজন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জিয়া উল হক দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এই রেস্ট হাউজে কোন প্রকার সরকারি ফি ছাড়া থাকছেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে ঝর্ণার নাকের ডগার সামনে । অথচ এই পরিচালকের এ বিষয় কোন মাথা ব্যাথা নেই। অন্যদিকে ইনমাস পরিচালকের ব্যবহারিত গাড়ীটি পরিচালক ছাড়াও বিভিন্ন ডেইলি ব্যাসিসের কর্মচারিদের প্রতিনিয়ত আনা-নেওয়া করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ঝর্ণা দাস পরিচালকের চেয়ারে বসে মাইক্রোল্যাব নামে একটি বৃহৎ ডায়াগনস্ট্রিক সেন্টারের মালিকানার অংশিদার বনে গেছেন। তবে ডাঃ ঝর্ণা দাস মালিকানার অংশিদারের বিষয়টি অস্বীকার করে মাইক্রোল্যাবসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে যান বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের পরিচালক (উপ-সচিব) প্রশাসন বিভাগ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। ফলে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button