স্থানীয় সংবাদ

স্পেশাল কৃষি ট্রেনে একদিনে খরচ ১০ লাখের বেশি : আয় ৪৬০ টাকা

কামাল মোস্তফা ঃ দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার নানান পদক্ষেপ নিলেও খুব একটা কাজে আসছে না। দ্রব্যেমূল্যের দাম কমাতে সর্বশেষ দেশের কয়েকটি বিভাগ থেকে স্পেশাল কৃষি ট্রেন চালু করলেও তার সুফল মিলছে না। ঢাকার বাহির থেকে সবজিসহ পণ্যসামগ্রী রাস্তায় চাঁদাবাজি এড়িয়ে কম মূল্যে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে সরকার কৃষি ট্রেন চালু করে।খুলনা থেকে প্রথম দিন ট্রেনের খরচ হয় ১০ লাখ টাকার বেশি, যেখানে খরচ ওঠে মাত্র ৪৬০টাকা। মঙ্গলবার ট্রেন থাকলেও পণ্যের অভাবে ট্রেনের শিডিউল বাতিল হয়। জানা গেছে খুলনা থেকে ট্রেনে ঢাকার দূরত্ব ৪১২ কিলোমিটার। এ দূরত্বে ট্রেনের পরিবহন খরচ হয় ১০ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু মঙ্গলবার পণ্যের অভাবে ট্রেনতো যাইনি,্ উপরন্তু প্রথমবারের শিডিউলে মাএ ৬৪০ কেজি পণ্য গেছে খুলনা থেকে ঢাকা গেছে। যা থেকে রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া আদায় করেছে মাত্র ৪৬০ টাকা। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এই ট্রেনে সাধারণ লাগেজ ভ্যানের পাশাপাশি রেফ্রিজারেটেড লাগেজ ভ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে মাছ মাংসসহ পচনশীল পণ্য পরিবহন করা যাবে। খুলনা থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি পণ্যের খরচ ১ টাকা ৪৭ পয়সা। কিন্তু কৃষকদের ট্রেনে পণ্য পাঠানোতে আগ্রহ কম। কারণ হিসেবে তারা বলছেন ট্রাকে পণ্য পাঠানো তুলনামূলক সহজ। নির্দিষ্ট স্থান এমনকি ক্ষেত থেকে ট্রাকে সবজি তারা ঢাকার আড়তে পৌঁছাতে পারেন। এতে সড়ক পথে কেজি প্রতি দুই থেকে আড়াই টাকা খরচ পড়ে। অন্যদিকে ট্রেনে ভাড়া কম হলেও আড়ৎ থেকে বা ক্ষেত থেকে বিভিন্ন পরিবহনে স্টেশনে নিতে হয়। সেখানে আবার কুলি খরচ, সাথে কুলি ভাড়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া ঢাকায় স্টেশন থেকে আবার মোকামে মাল পৌঁছানোর খরচ আছে। সব মিলিয়ে ৩ টাকার বেশি খরচ পড়ে যায় প্রতি কেজিতে। এছাড়া ট্রেনে পণ্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। ট্রেনে কৃষি পণ্য পাঠানোর বিষয়ে কথা হয় সোনাডাঙ্গা কাঁচাবাজারের আড়তদার শাফিন আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, ট্রেনে কৃষি পণ্য পাঠানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে এমন ব্যবস্থা হয়ে থাকলে ভালো। খুলনা রেলওয়ের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন বাজার, সবজির আড়ৎসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছি। এখনো আশানুরুপ সাড়া মেলেনি। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিন ট্রেনের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন। ট্রেনের পক্ষ থেকে যদি আমরা অন্য পরিবহন দিয়ে ডোর টু ডোর পণ্য সংগ্রহ করতে পারি তাহলে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button