স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে আ’লীগ নেতা ও গং কর্তৃক যুবদল নেতাকে মারধরের ঘটনায় মামলা ঃ আসামী ২০ গ্রেফতার নেই

স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর দৌলতপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আ’লীগ নেতাদের হাতুড়ি পিটুনিতে রক্তাক্ত হলো যুবদল নেতা। গত ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে দৌলতপুর দেয়ানা পূর্বপাড়া ভাউন্ডারী রোডে এ ঘটনা ঘটে। আহত শেখ মিজানুর রহমানকে (৩৬) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দৌলতপুর থানায় ২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। গত ২ জানুয়ারী ভিকটিম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। হামলার নেতৃত্বদানকারী তুহিন শেখ ৫নং ওয়ার্ড আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক। এজহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী দেয়ানা পূর্বপাড়া বাউন্ডারী রোড এলাকার বাসিন্দা। আসামীরা এলাকার আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য, অস্ত্রবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং অর্থের বিনিময়ে অন্যের সম্পত্তি জোর জবরানে দখল এবং সম্পূর্ণ দলীয় শক্তির উপর এ ভিত্তি করে সাধারন মানুষের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করাই তাদের নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। বিগত স্বৈরচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আসামীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস কারোর ছিলো না। বাদী দৌলতপুর থানাধীন ৪নং ওয়ার্ড যুব দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমার বসতবাড়ী সংলগ্ন দেয়ানা মৌজাধীন বি.আর.এস ২৯৬৭ নং দাগে ০.০৮৪২ একর জমির মধ্যে একটি বড় টিনের গোডাউন ঘর ছিল। উক্ত গোডাউন ঘরে ১-৭ নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আসামীগন তাদের অবৈধ অস্ত্র রাখার, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করা, মাদক ব্যবসার আখড়া হিসাবে ব্যবহার করতো। সম্প্রতি ৫ আগষ্ট’২৪ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতন এবং শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালায়ে যাওয়ার পর আমরা আমাদের গোডাউন ঘরটি দখল নেই। এরপর থেকে আসামীগন আমাকেসহ আমার অন্যান্য ভাইদেরকে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য জীবন নাশের হুমকী দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে আমি এবং আমার চাচাতো ভাই ফরিদ হোসেন উক্ত গোডাউন ঘরের নিকট আসা মাত্র পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১-৭ নং আসামীগনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামী সম্পূর্ণ বে-আইনী ভাবে এবং একই উদ্দেশ্যে হাতে রামদা, লোহার রড, চা-পাতি, অবৈধ পিস্তলসহ অন্যান্য অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাকে এবং আমার চাচাতো ভাইকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। ওই সময় ১ নং আসামী তুহিন শেখ (কসাই তুহিন) হুকুম দিয়ে বলে, শুয়ারের বাচ্চাকে গোডাউন ঘর দখল করার সাধ চিরদিনের জন্য মিটায়ে দে। সঙ্গে সঙ্গে ২ নং আসামী রাসেল শেখ আমাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার গলা চেপে ধরে এবং মাথার পেছনে পিস্তল ঠেকায়ে অন্যান্য আসামীদের বলে শালাকে কোপায়ে, পিটায়ে শেষ করে দে। সঙ্গে সঙ্গে ৩নং আসামী মাসুদ তার হাতে থাকা লোহার হাতুড়ী দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে, আমি বাম হাত দ্বারা ঠেকানোর চেষ্টা করলে বাম হাতের তালুতে লেগে মারাত্মক মস্কা, ফোলা নীলা জখম হয়। ৪নং আসামী জুয়েল শেখ তার হাতে থাকা লোহার চাপাতি দ্বারা খুন করার জন্য মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয়। আমি মাথা নিচু করলে আসামীর অসাবধানতা বশতঃ চাপাতির ধারালো সাইড না লেগে উল্টো সাইডের আঘাতে আমার পিঠের বাম পাশে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। ৫নং আসামী সাব্বির হোসেন শুভ তার হাতে থাকা লোহার হাতুড়ী দ্বারা আমার পিঠের বাম পাশসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক নীলা-ফোলা জখম করে। ৮নং আসামী সাজিদ তার হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করে। আমি মাথা সরায়ে নিলে উক্ত আঘাত আমার নাকের মাঝখানে লেগে নাক ভেঙ্গে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। তার চিৎকারে লোকজন এসে পড়ায় আসামীগন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পূর্বে ২নং আসামী মোঃ রাসেল হোসেন (কিলার রাসেল) আমার গলায় থাকা আনুমানিক ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আসামীরা চলে গেলে এলাকাবাসী ভিকটিম মিজানকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে ২০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৮জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামীরা হলো, জিন্নাত হোসেনের ছেলে আ’লীগ নেতা মোঃ তুহিন শেখ ওরফে কসাই তুহিন (৪৫), মোঃ রাসেল হোসেন ওরফে কিলার রাসেল( ৪২), মাসুদ হোসেন (৪৩), মৃত বেল্লাল হোসেনের ছেলে মোঃ জুয়েল হোসেন (৩৮), শেখ মনিরুল ইসলামের ছেলে সাবির ইসলাম শুভ (৩০), বেল্লাল হোসেনের ছেলে রুবেল (৪০), শেখ আবুল হোসেনের ছেলে শেখ আজিজুল ইসলাম (৫৫), মাসুদ হোসেনের ছেলে সাজিদ (১৯)। আসামীগন আমাকে অহরহ মামলা না করার জন্য হুমকী ও হত্যার ভীতি প্রদর্শন করছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিবস কুমার মৃধা বলেন, তিনি মামলার নথি পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনার বিবরণ শোনা হয়। তবে আসামীরা পলাতক রয়েছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button