স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার চোরচক্রের দুই সদস্য আটক, পালাতক এক

# আটক ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা
# অপরাধী ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চলছে : ওসি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ জনগনের জান ও মালের সুরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করাই পুলিশের পেশাদারিত্বের মূলকাজ। এই পেশাদারিত্বের মূল কর্মকা-কে শতভাগ বাস্তবে রুপ দিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপির) অর্ন্তগত দৌলতপুর থানা পুলিশ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের কার্যক্রম সমূহ যথাযথভাবে পালনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে চলেছে। থানা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদান, খুলনার চলমান আইন-শৃঙ্খলা বিঘিœতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনসহ মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে, বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অত্যন্ত দায়িত্বশীল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু. মোরাদুল ইসলাম। থানাধীন এলাকার অপরাধীদের অপরাধ নিয়ন্ত্রেন বিশেষ অভিযানের অংশ হিসাবে দৌলতপুর থানার পুলিশের একটি অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা পূর্বপাড়া আজিজুল হক সড়ক সংলগ্ন এলাকা হতে একটি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। একই সাথে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, পলাতক রয়েছে এক আসামী।
ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন- দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শাহাদাৎ শেখ এর পুত্র ১. মোঃ ইমরান শেখ (২৬), ২. দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা পূর্বপাড়া আজিজুল হক সড়ক এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম শেখ এর পুত্র নুর মোহাম্মদ শেখ (পলাতক) ও ৩. একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম শেখ এর পুত্র মামুন হোসেন @ জন্থর শেখ (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা। গ্রেফতারকৃত, পলাতক এবং অজ্ঞাতনামা আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে অভ্যাসগতভাবে (জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে) মোটরসাইকেল চুরি করে অবৈধভাবে বিক্রয়ের জন্য নিজেদের হেফাজতে রাখার অপরাধে সংশ্লিষ্ট থানায় তাদের বিরুদ্ধে সংশিষ্ট থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন; (মামলা নং- ১৭, তাং- ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ইং), শনিবার দুপুরে আসামীদের খুলনার আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রাজ্জাক। গ্রেপ্তারকৃত আসামী মো. ইমরান শেখ এর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে নানামুখি অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে জন্য খুলনা বিভিন্ন থানায় ৩ টি ও নড়াইল জেলার কালিয়া থানায় ১ টি মামলা রয়েছে এবং অপর পালাতক আসামী নুর মোহাম্মদ শেখ এর বিরুদ্ধে নানামুখি অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে ইতোপূর্বে খুলনার রুপসা থানায় ১ টি ও সংশ্লিষ্ট থানায় ১ টি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। পুলিশি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা পূর্বপাড়া আজিজুল হক সড়কস্থ গ্রেপ্তারকৃত আসামী নুর মোহাম্মাদ শেখ এর বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি একটি চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানা পুলিশের অভিযানিক একটি চৌকস দল ওই ঘটনাস্থলে যান এবং অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তকিপয় কয়েকজন ব্যক্তি সু-কৌশলে উক্ত জায়গা হতে পালানোর চেষ্টাকালে অভিযানিক দলের সদস্যরা দুইজন ব্যক্তিকে ১ টি মোটরসাইকেল সহ ঘটনাস্থল গ্রেপ্তার করে। পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদ্বয় তাদেরকে (পুলিশকে) তাদের (ধৃত ব্যক্তিদ্বয়ের) হেফাজতে থাকা মোটরসাইকেলে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এবং জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোটরসাইকেলটি চোরাই বলেও জানায়। গ্রেফতারকৃত, পলাতক এবং অজ্ঞাতনামা আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে অভ্যাসগতভাবে (জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার করে) মাটরসাইকেল চুরি করে অবৈধভাবে বিক্রয়ের জন্য নিজেদের হেফাজতে রাখার অপরাধে সংশ্লিষ্ট থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি দেয়ানা পূর্বপাড়া এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত কিছু কতিপয় ব্যক্তি একটি চোরাই মোটর সাইকেল বেচাকেনা করছে। ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা খুঁজে পাই এবং মোটরসাইকেল জব্দ করি, জড়িতদের গ্রেপ্তার করি। এক আসামী পালাতক রয়েছে। বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও আসামী গ্রেপ্তারের ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পালাতক আসামী গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযান চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো।
সার্বিক বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মু. মোরাদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমরা সক্ষম হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, মামলার তদন্তের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এছাড়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাসহ মাদক কারবারীরোধে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ করে করো পার পাওয়ার সুযোগ নেই, সে যত বড় সন্ত্রাসী বা প্রভাবশালী হন না কেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button