যশোর জেলা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা ও অফিস সহায়কসহ ৫জনকে দুদকে তলব

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোর জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভার প্রাপ্ত লুৎফর রহমান সরদার ও সাবেক অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনসহ ৫ জনকে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ তলব করে নোটিশ জারী করা হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল পলাতক রয়েছেন। যশোর জেলা পরিষদের আওতাধীন সড়ক ও মহাসড়কের সরকারি হাজার হাজার গাছ বিক্রি ও বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লোপাট, নিয়োগ বাণিজ্য,জমি ইজারা ও দোকান বরাদ্দের টাকা আত্মসাত পূর্বক নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য শোনা ও গ্রহন করার প্রয়োজনীয়তার জন্য তাদেরকে উপস্থিত হওয়ার প্রথম দফায় ২৩ জানুয়ারী নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারী নির্ধারণ করে জানানো হয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানাগেছে, বিগত বছর গুলোতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত লুৎফর রহমান সরদার ও অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনের মাধ্যমে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পর নামে লাখ থেকে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থসহ জেলা পরিষদের জমি লিজ,বিভিন্ন সড়কে গাছ বিক্রি ও জেলা পরিষদের আওতাধীন ডাক বাংলা ও পরিষদে নিয়োগ বাণিজ্য,জেলা পরিষদের আওতায় বিভিন্ন মার্কেটের দোকান ঘর বরাদ্ধসহ বহুবিধ অভিযোগ উঠে।
সূত্রগুলো বলেছেন, যশোর জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী (প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত ) লুৎফর রহমান সরদার,অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে তৎকালীন চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের সাথে যোগসাজস করে পরিষদের অর্থ লুটপাট,মার্কেটের দোকান বরাদ্দর নামে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ,বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ কমিশনের ভিত্তিতে পকেটস্থসহ বহুবিধ অভিযোগ উঠে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় খুলনা (স্থানীয় সরকার শাখা) স্মারক নং ০৫.৪৪.০০০০.০০৪.১৯.০০২.২৪-৮৬০ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনার সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুমনা আইরিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জনস্বার্থে প্রধান সহকারী লুৎফর রহমান সরদারকে নড়াইল জেলা পরিষদে ও অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনকে মেহেরপুর জেলায় বদলী করা হয়। অফিস সহায়ক সরোয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসা উন্নয়নের নামে প্রকল্প কমিশনের ভিত্তিতে,জেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়কের গাছ উজাড়,পরিষদের অর্থায়নে দারিদ্র জনগনের সাহায্যের মালামাল,কম্বল,শেলাই মেশিন স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের বাই সাইকেলসহ শিক্ষা উপবৃত্তির অর্থ বিভিন্নভাবে চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের সহযোগীতায় আত্মসাতসহ বহুবিধ অভিযোগ উঠে। সরোয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই যশোর জেলা পরিষদে।তাছাড়া, জেলা পরিষদ থেকে লুটপাটকৃত অর্থ দিয়ে পুরাতন কসবা ঢাকা রোডের পাশে জমি কিনে বিশাল বহুল বাড়ি নির্মাণসহ বহুবিদ খবর যশোর জেলা পরিষদে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অজানা নয়। প্রধান সহকারী লুৎফর রহমান সরদারের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের সুপার মার্কেটের দোকান ঘর লিজ দেয়ার নামে দোকান প্রতি নূন্যতম ২ লাখ থেকে সাড়ে ৪লাখ টাকাসহ কোটি টাকার উপরে অর্থ তৎকালীন চেয়ার ম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের সাথে যোগসাজসে আত্মসাত,বিভিন্ন স্থানে জেলা পরিষদের জমি ইজারা প্রদানে উর্পাজিত অর্থ আত্মসাতসহ বহুবিধ অভিযোগ রয়েছে। এ পরিষদ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সাতক্ষীরা নিজ এলাকায় জমি কেনা,মার্কেট নির্মান ও যশোরে জমি কেনাসহ অর্থ নামে বে নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখার অভিযোগ উঠে। তাছাড়া, বিগত ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারী স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা পরিষদ অধিশাখার উপসচিব জুবাইদা নাসরীন স্বাক্ষরিত ৩৮৩ স্মারকে বলা হয় যে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের স্মারক নং জেপস/সংস্থাপন/ ব্যক্তিগত/ব-৮(২০১০)২২৩, তারিখ ০২/১০/২০১২ খ্রিঃ উপযুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপেক্ষিতে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, যেহেতু প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদটি সাঁট লিপিকার,প্রধান সহকারী ও হিসাব রক্ষক থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয় সেহেতু সকল জেলা পরিষদে কর্মরত সকল কর্মচারীর জ্যৈষ্ঠতা তালিকা প্রনয়ন ব্যতিত যশোর জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী লুৎফর রহমান সরদারকে প্রশাসনিক কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ নেই। অথচ তারপরও লুৎফর রহমান সরকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আলম অবসরে যাওয়ার পর থেকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। যা নিয়ে যশোর জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোন সুরাহা হয়নি তখন থেকে। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, দূর্নীতিদমন কমিশন (দুদক) জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলীকেও তলব করেছেন।



