খালিশপুরে ট্যাংকলরী শ্রমিকের ব্যানারে শ্রমিকলীগের কর্মবিরতি ঃ ১৬ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

# তেল সেক্টরের শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকলীগ নেতা আলী আজিমকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও জামিনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিকরা। সোমবার সকালে খালিশপুরে অবস্থিত বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে শ্রমিকরা। এর আগে রোববার দুপুরে একাধীক মামলার আসামী আলী আজিমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। খালিশপুর থানায় গত ২১ আগস্টের নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তিনটি তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘটের কারণে এখন পর্যন্ত খুলনাসহ ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। আলী আজিমকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ বলেন, এই আলি আজিম দীর্ঘ দিন যাবৎ আ’লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিল। মিছিল মিটিং করেছে। ভোট প্রার্থনা করেছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন বানচাল করতে পতিত সরকারের ক্যাডার বাহিনীর সাথে নতুন রাস্তার মোড়ে মহড়া দিয়েছে। ছাত্রদের মিছিল মিটিং বানচাল করতে এই আলী আজিমের ভূমিকা ছিল প্রকাশ্যে। সে গত ১০/১২ বছর আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পর্ক ছিল। এরপর থেকে সে আ’লীগের রাজনীতির সাথে মিলে মিশে সক্রিয় কর্মীর মত কাজ করছে। তাকে গ্রেফতার করায় বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবান জানানো হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আ’লীগের সক্রিয় কর্মী এই আলী আজিম মুক্তির দাবিতে পলাতক শ্রমিকলীগ, আ’লীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মীরা মাঠে সক্রিয় হয়েছে। যারা মাঠে আসতে পারছে না তারা পিছন থেকে অর্থ ও জনবল যোগান দিচ্ছে। দেশের শান্তি নস্ট করতে এ চক্রটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অবিলম্বে আজিমের দোষরদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনিসহ অন্যান্য বিএনপি নেতা-কর্মীরা। খালিশপুর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আলী আজিমকে ফৌজধারী মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সেখানে আইনগতভাবে সে ছাড়া পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সে বিগত অনেক বছর আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। এরপর সে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়ায়। আন্দোলনের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করলে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। ওজোপাডিকোর শ্রমিকদল নেতা মুজিবুর রহমান বলেন, আলী আজিম অনেক আগ থেকেই আ’লীগ করে তা তিনি জানেন। ফৌজদারি মামলায় আজিম আসামী। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে আন্দোলন যারা করছে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আছে। আন্দোলনের কোন যুক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে গতকাল আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকলীগ নেতা এনাম মুন্সীসহ একাধিক আ’লীগ, শ্রমিকলীগ নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখো গেছে। অথচ এই এনাম মুন্সি একাধিক মামলার আসামী হয়ে পলাতক ছিলেন। এ আন্দোলনে তিনি আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রকাশ্যে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তারা এ সুযোগে প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। তাদের অতিউৎসাহি ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছিল, তারা আইন শৃংখলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাচ্ছে। সাধারণ শ্রমিককে ভূল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, পতিত সরকারের একটি গোষ্ঠি ঠুনকো অজুহাতে মাঠে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে চক্রটি তেল সেক্টরকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাঃ সম্পাদক জাকির হোসেন এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। দৌলতপুর থানা বিএনপির সাঃ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন বলেন, এ আন্দোলনের সাথে বিএনপির কোন সম্পৃক্তা নেই। একজন ফৌজদারি মামলার আসামীকে আইন অনুযায়ী পুলিশ গ্রেফতার করবে-এটাই স্বাভাবিক। পুলিশ সে কাজটি করেছে। সেখানে আন্দোলনের কোন যুক্তিকতা দেখি না। তারপরও যারা আইন শৃংখলা অবনতি করতে নানা অজুহাত খুঁজছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানান। পতিত সরকারের দোসররা কোন অজুহাতে যাতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের সর্তক থাকতে হবে।



