স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ব্যক্তি স্বার্থে তেল সেক্টরকে অশান্ত করতে মরিয়া ফ্যাসিবাদচক্র

# ১৬ জেলার পাম্পে তেল সংকটের শঙ্কা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আ’লীগের সক্রিয় কর্মী আলী আজিমকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রবিবার দুপুর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করেছেন শ্রমিকদের ব্যানারে পতিত সরকারের দোসররা। এ কারণে গত তিন দিন ধরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও ১৬ জেলায় পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুত কমেছে। জ্বালানি তেল সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে পাম্পগুলোতে। তবে আন্দোলন পতিত সরকারের কর্মীদের অপকৌশল বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন। তারা তেল সেক্টরে বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি কঠোর হস্তে দমনের দাবি জানান বিএনপি নেতারা। খুলনা মহানগরীর ফেরিঘাট মোড়ের মেসার্স কেসিসি পেট্রোলিয়াম সূত্রে জানা গেছে, এ পাম্পে অকটেন শেষ হয়ে গেছে। সামান্য পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল রয়েছে। যা দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। বাগেরহাটের আল আরাফা পেট্রোল পাম্প সূত্রে জানা গেছে, ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। কর্মচারীরা জানান, পেট্রোল ও অকটেনে একদিন চলতে পারে। এর মধ্যে সরবরাহ না পেলে তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। প্রায় একই রকম চিত্র খুলনা, বাগেরহাট, যশোরসহ ১৬ জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও। আন্দোলনকারীরা জানান, সাধারণ সম্পাদক আলী আজিমের বিরুদ্ধে খালিশপুরে বিএনপি অফিস ভাঙচুরের মামলা রয়েছে। গ্রেফতার করার পর সোমবার তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ৯ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। আলী আজিমকে মুক্তি এবং ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি চলবে। খালিশপুর থানার গত ২১ আগস্টের নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ বলেন, এই আলী আজিম দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলেন। মিছিল-মিটিং করেছেন, ভোট প্রার্থনা করেছেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন বানচাল করতে পতিত সরকারের ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে নতুন রাস্তা মোড়ে মহড়া দিয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের মিছিল-মিটিং বানচাল করতে এই আলী আজিমের ভূমিকা ছিল প্রকাশ্যে। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এই আলী আজিমের মুক্তির দাবিতে পলাতক শ্রমিক লীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় হয়েছে। যারা মাঠে আসতে পারছে না তারা পেছন থেকে অর্থ ও জনবল জোগান দিচ্ছে। দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে এ চক্রটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অবিলম্বে আজিমের দোসরদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনিসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা। দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন বলেন, এ আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনও সম্পৃক্তা নেই। একজন ফৌজদারি মামলার আসামিকে আইন অনুযায়ী পুলিশ গ্রেফতার করবে, এটাই স্বাভাবিক। সেখানে আন্দোলনের কোনও যৌক্তিকতা দেখি না। খুলনা জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা বলেন, ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়ন ও কল্যাণ সমিতি-এ দু’টো সংগঠন ফ্যাসিবাদচক্রের দখল। আগে এ দখলদারদের বিতাড়িত করতে হবে। তবেই তেল সেক্টরে শৃংখলা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থে পতিত সরকারের দোসরা ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে আন্দোলন করছে। এখানে শ্রমিকদের কোন স্বার্থ নেই। এখানে যারা আন্দোলন করছে তারা অধিকাংশই পতিত সরকারের দোসর। এরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সাধারণ শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে আবার কাউকে বাধ্য করছে আন্দোলন করতে। এ আন্দোলনের কোন প্রয়োজন আছে বলে শ্রমিকদল মনে করে না। অবিলম্বে এ অবৈধ আন্দোলন বন্ধসহ পতিত সরকারের দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এই নেতা। ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লিটন খান বলেন, আলী আজিম দীর্ঘ কয়েক বছর আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। মিছিল মিটিং-এ তিনি সামনের সারিতে থাকতেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তিনি জামিন না নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন এটা হতে পারে না। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এ জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তার মুক্তি নিয়ে শ্রমিকদের কোন স্বার্থ জড়িত নেই। এখানে ব্যক্তি স্বার্থে একটা সেক্টরকে জিম্মি করে ফেলবে আ’লীগ দোসররা। এটা হতে পারে না। এই ফ্যাসিবাদচক্রকে প্রতিহত করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ চক্রকে বিতাড়িত করে এ সেক্টরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে জন্য যা যা করার দরকার জুলাই-আগস্ট ধারণকারীরা তা করবে বলে তিনি মনে করেন। খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আলী আজিমকে ফৌজদারি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সেখানে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া তার মুক্তি পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তিনি বিগত দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। এখানে শ্রমিকদের কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্দোলন নয়, ব্যক্তি আলী আজিমের স্বার্থে এ আন্দোলন। মঙ্গলবার আন্দোলন চলমান থাকলেও সড়কে আন্দোলনকারীদের তেমন পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের বুঝানো হচ্ছে। এখনও ইতিবাচক কোন কিছু বলতে পারছি না বলে তিনি জানান।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button