কেসিসি’র ২৫ হাজার লাইসেন্স’র বিপরীতে রাজস্ব টার্গেট ৭ কোটি

# বাণিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স শাখার চলতি অর্থ বছর ২০২৪-২৫ #
# সর্বশেষ তথ্যানুসারে প্রাপ্ত লাইসেন্স ১৭ হাজার ৭’শ, রাজস্ব আদায় প্রায় ৬ কোটি
# ট্রেড লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শীঘ্রই এ্যাকশন যাবে কেসিসি #
# ব্যবসার ধরণ অনুসারে যৌক্তিক ফি নির্ধারণের পরার্মশ নাগরিক নেতাদের #
মো. আশিকুর রহমান ঃ ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence)’র আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে বানিজ্য করার অনুমতি পত্র। যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কোনো ব্যবসা-বানিজ্য পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান করে থাকেন। বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা বৈধভাবে পরিচালনা করার জন্য এই লাইসেন্স প্রাপ্তি আবশ্যক। প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ এর তিনটি আইন আছে, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। এই লাইসেন্সটি স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুসারে হয়ে থাকে। স্থানীয় সরকার এই ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে তার অনেক ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে কেউ তাকে বৈধ ব্যবসায়ী হিসাবে দাবি করতে পারবে না। উপরন্তু তার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম অবৈধ হয় এবং তার জন্য সাজা হতে পারে।
ওই ধারাবাহিকতায় খুলনা মহানগর এলাকায় সরকারি নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন না করে ব্যবসা পরিচালনা করলে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন আইন), ২০০৯ এর ধারা ৯৩ অনুসারে কোনো ব্যক্তি ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত না হয়ে/ রিনিউ (নবায়ণ) না করে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাকে প্রথমবার/প্রথম দিনের জন্য ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং এই অপরাধে পরবর্তীতে প্রতিবার/ প্রতিদিনের জন্য ৫০০ টাকা করে জরিমানা করতে পারবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। জরিমানা প্রদান না করলে ও ব্যবসায়ীর নামে মামলা দায়ের করতে পারবে সংশ্লিষ্টরা। আবার যদি কেউ ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন না করে ব্যবসা পরিচালনা করে, নতুবা নিজেকে ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দেয় সেটা প্রতারণার সামিল হিসাবে গন্য হবে। তাছাড়াও তার বিরুদ্ধে অন্য দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
যে কোনো বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি আবশ্যক। যেমন, স্বত্বাধিকারী বা প্রোপাইটারশিপ ব্যবসা, পার্টনারশিপ ব্যবসা, কোম্পানীর, কোনো ধরনের ব্যবসার ব্রাঞ্চ অফিস খোলার জন্য, ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ওষুধ, ফ্যাক্টরি, আমদানি, রপ্তানী, সরবরাহকারী ইত্যাদি। কেসিসি’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে ২০০৪ সালের জুলাই হতে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বানিজ্যিক লাইসেন্সের টার্গেট করা হয়েছে ২৫ হাজার। যার বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি। সর্বশেষ তথ্যনুসারে ওই টার্গেটের বিপরীতে লাইসেন্স প্রাপ্ত বা গ্রহন করেছে ১৭ হাজার ৭’শ, যার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৮৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। এছাড়া নবায়ণকৃত লাইসেন্সের সংখ্যা ১৩ হাজার বলে নিশ্চিত করেছে কেসিসি’র রাজস্ব কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান। সংশ্লিষ্টরা আরো বলছে, টার্গেট অনুসারে লাইন্সেস প্রাপ্তির লক্ষ্য প্রায় ২ মাস ধরে ৩১টি ওয়ার্ডে ১৩ জন লাইসেন্স পরিদর্শক মাঠ পর্যায়ে জরিপ অব্যহত রেখেছেন। জরিপ প্রায় শেষ পর্যায়ের দিকে। ওই জরিপের পরও যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন লাইসেন্স প্রাপ্ত বা নবায়ন ভুক্তি হবেন না, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আরো জানা গেছে, বর্তমান সময়ে বানিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে নতুন বা নবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী বছর হতে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই বাড়ীতে বসে নতুন ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে পারবেন।
এ সংক্রান্তে নাগরিক নেতারা বলছেন, যারা বৈধতা নিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করতে যান তাদের সকলকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আসা উচিৎ। কিন্তু লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরণ অনুসারে যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করা উচিৎ। কারণ যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ফি দিবে তাদের পক্ষে যেন বোঝার কারণ না হয়। তারা যেন ট্রেড লাইসেন্স করতে সাচ্ছন্দবোধ করে। এ ক্ষেত্রে কেসিসিকে একটি সু-শাসনে আসা উচিৎ। যারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের শণাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেসিসির একটি মনিটরিং সেল থাকা উচিৎ। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে কেউ যেন হয়নারীর শিকার না হয় সেদিকেও সংশ্লিস্টদের খেয়াল রাখা দরকার বলে মতামত জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর ঋষিপাড়া মোড় এলাকার ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, আমি মনে করি প্রতিটি ব্যবসায়ীর সরকারি নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা উচিৎ। ব্যবসা পরিচালনা করা ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স একটি গুরুত্বর্পূন বিষয়। আমার ছোট্ট একটি মুদির দোকান। আমার কষ্ট করে হলেও প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্সটি নবায়ন করে নেই। এ বিষয়ে কেসিসির লাইসেন্স পরিদর্শক মো. নুরুল আলম বাবু জানান, আমি বর্তমানে কেসিসির আওতাধীন ১-৪নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছি। মাঠ পর্যায়ে আমরা বর্তমানে লাইসেন্সের জরিপের কাজ করছি, কাজ প্রায় শেষের পথে। এবছর লাইসেন্স এর বিপরীতে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আশা করি তা পূরণের সক্ষম হবো। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনা করুন।
এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) মহানগর শাখার সাঃ সম্পাদক এড.কুদরত-ই খুদা জানান, যারা বৈধতা নিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করতে চান তাদের সকলকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আসা উচিৎ। লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবসার ধরণ অনুসারে সংশ্লিষ্টদের যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করা উচিত। তাছাড়া যারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের শণাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেসিসির একটি মনিটরিং সেল থাকা উচিতও বলে আমি মনেক করি। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে কেউ যেন হয়নারীর শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার।
এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান জানান, চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে লাইসেন্সের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে তা পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যহত রেখেছি। এরপরেও অনেক ব্যবসায়ীরা যারা এখনো নতুন লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়ন করেননি, দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়ন করুন। নতুবা ওই সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



