শীত কমলেও চলছে মৌসুমি পিঠা বিক্রি

# বাড়তি আয়ের আশায় পিঠার পরশা নিয়ে বসেছে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা #
মো. আশিকুর রহমান ঃ মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময় চলছে। ‘মাঘের শীত, বাঘের গায়ে- এ বাক্যটি প্রচলিত থাকলেও এবছর তেমন দেখা নেই শীতের। বিগত বছরগুলোতে মাঘ মাসে শৈত্যপ্রবাহ, ভারী কুশায়া ও বাইরে হাঁড় কাঁপানো শীতের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে খুলনায় শীতের তেমন প্রকোপ নেই বললেই চলে। শীত অনুভূতির বিপরীতে বর্তমানে দিনের বেলায় গরমের অনুভূত হচ্ছে এবং রাতে সামান্য শীতের অনুভব হচ্ছে। শীতের শুরুতেই খুলনার মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে স্থানীয় এলাকায় বাড়তি আয়ের আশায় ভ্রাম্যমান পিঠা বিক্রেতারা ভাঁপা, পাটি চাপটা, চিতই পিঠা তৈরীতে ব্যস্ত থাকে।
তবে সম্প্রতি খুলনায় শীতের অনুভূতি কম থাকলেও ওই সকল পিঠা বিক্রেতা এখনো খুলনায় স্থানীয় এলাকা গুলোতে তাদের পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের আশায় সন্ধ্যার পর পিঠা বিক্রি অব্যহত রেখেছে। খুলনায় পর্যন্ত খেজুর রস না পাওয়ার কারণে আগের মতো বাড়ীতে বাড়ীতে পিঠা উৎসব চলে না। যে কারণে অনেই গরম গরম ভাপা, চিতই বা পাটি চাপটা পিঠা খেতে সন্ধ্যার পর ভ্রাম্যমান পিঠার দোকানে ভীড় জমাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি তেলের পিঠা প্রতি পিচ ৫ টাকা, সাঁচের পিঠা ৫ টাকা ও ভাঁপা পিঠা ১০ টাকা বিক্রি করছে তারা। তাদের দোকানগুলোর মূল ক্রেতারা হচ্ছে পথচারী ও শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, উঠতি বয়সী ক্রেতা ভ্যান চালক ও দিনমজুর সহ সব বয়সের মানুষ। পিঠা বিক্রেতা রহিমা জানান, সংসারের সচ্ছলতা ও ঋণ পরিশোধ করতে শীতকে ঘীরে পিঠা বিক্রি শুরু করেছি। তবে এ বছর শীতের অনুভূতি কম থাকায় ক্রেতা একটু কম। তারপর ও বেচাবিক্রি ভালো হচ্ছে। খরচ-খরচা বাদে প্রতিদিন প্রায় ৪’শ টাকার মতো লাভ থাকছে। অভাবের সংসারে পিঠা বিক্রি করে বেশ উপকৃত হচ্ছি। বিএল কলেজের ছাত্র সেজান জানায়, প্রতিদিন রাতেই বন্ধুদের নিয়ে ঝাল মশলার পিঠা খেতে আসি। তবে গরম ভাপের পিঠা বেশি ভালো লাগে। অপর পিঠা বিক্রেতা হালিম জানান, চালের দাম বেশি হলেও প্রতিটি চিতই পিঠা ৫টা করে বিক্রি করছি। বিক্রিও বেশ ভালো। সন্ধ্যার পর অনেকেই মশলা মাখানো চিতই খেতে আসে দোকানে। পিঠা খেতে আসা নাসির উদ্দিন জানান, সময় পেলেই সন্ধ্যার পর দৌলতপুর নতুনরাস্তার পিঠা খেতে আসি। দোকানে খেজুর গুড় দিয়ে ধোয়া ওড়া ভাপা পিঠার স্বাদই আলাদা। সাথে আছে বিভিন্ন ভর্তার দিয়ে গরম গরম চিতই পিঠা। খেতে ভারী মজা।



