খুলনায় বেসরকারী ক্লিনিক ও ডায়াগস্টিক গুলোতে যত্রতত্র ফেলে রাখা হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য

# নেই বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা #
শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ খুলনার অধিকাংশ ব্যাক্তি মালিকানাধিন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গুলোতে যত্রতত্র ফেলে রাখা হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য। রক্ত মাখা সিরিঞ্জ, ক্যানোলা, তুলা স্যালাইনসহ বিভিন্ন মেডিকেল বর্জ্য। নেই বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা । এতে করে বাড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুকিঁ, দুষিত হচ্ছে পরিবেশ, ছড়াচ্ছে রোগ জীবাণু। মূলতঃ এসব বেসরকারী হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) থাকা বাধ্যতামূলক হলেও খুলনায় অধিকাংশ বেসরকারী হাসপাতালে ইটিপি নেই। যে কারণে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে যত্রতত্র ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইন নল, ব্লেড, কাঁচি, কাচের বোতল, সূচ, বর্জ্য ফেলা রাখা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে বর্জ্যকর্মী সব ধরনের বর্জ্য একত্রে বালতি বা গামলায় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে যত্রতত্র ফেলে দেয়া বা প্লাস্টিক সামগ্রী হিসেবে ভাঙ্গাড়ী বানিয়ে বিক্রি করে। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। জনসাধারনের চলাচলে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়া অধিকাংশ এসব বেসরকারী স্বাস্থ্য সেবা গুলো মানছেনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল এলাকায় শেখ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখা যায় রোগীর রক্ত নেয়ার পর তুলা, সিরিঞ্জ ফেলে রাখা হচ্ছে ঢাকনাবিহীন ঝুড়িতে। এমনকি অদক্ষ নাম মাত্র এক কর্মচারী রক্ত টানছেন আর নিজেই ল্যাবে নিয়ে পরিক্ষা করছেন। তবে প্রশ্ন করতেই বলা হয় দায়িত্বরত ব্যক্তি, এরকম সব প্রতিষ্ঠানে রাখা হয় এসব মেডিকেল বর্জ্য। এছাড়্ াজানাযায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ১০ শয্যা বেসরকারী হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ৩ জন চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী ২ জন নার্স ও ৩ জন সুইপার থাকা বাঞ্চনীয়। একই সাথে ৮শ বর্গ ফুট জায়গা, সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক নার্স ও সুইপার থাকতে হবে। অন্যদিকে প্যাথলজি বিভাগ চালু করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমাধারী প্যাথলজিস্ট ও ১ জন সুইপারের পদ থাকা বাধ্যতা মূলক। পাশাপাশি মাইক্রোস্কোপ, ফ্রিজ, মেডিকেল যন্ত্রপাতি, অপারেশন থিয়েটার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কিনিকগুলোর বাস্তব চিত্র ভিন্ন অধিকাংশ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত চিকিৎসক না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ডাক্তার ডেকে রোগীর অপারেশন বা অন্যান্য চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি নেই স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নেই কোন তদারকি। সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ও উন্নত চিকিৎসার প্রলোভোন দেখিয়ে সরকারী হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । বিষয়টি নিয়ে শরিফ হোসেন বলেন, প্রায় সকল ব্যাক্তি মালিকানাধিন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে নেই কোন বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে ব্যবহৃত রক্তমাখা পুশ করা সিরিঞ্জ, প্লাস্টিকের স্যালাইন নলসহ অন্যান্য ব্যবহৃত সরাঞ্জামাদি যত্রতত্র ফেলে রাখা থাকে। এতে করে বাড়ছে জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন নিতিমালা । এমনকি এবিষয়ে তদারকির করণে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এবিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুরুল মুরশিদ বলেন, এসব ডায়াগণস্টিক সেন্টারে সিটি কর্পোরেশন থেকে বর্জ্য নেয় বলে জানি। এছাড়া আমরা তদারকি করছি।



