৮ দফা দাবিতে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান নীতিমালা চূড়ান্ত ও দ্রুত গেজেট প্রকাশ করার দাবিসহ ৮ দফা দাবিতে আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ খুলনা মহানগর কমিটি। সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকে দেশব্যাপী পালিত এই কর্মসূচিতে নীতিমালার আলোকে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইকের নিবন্ধন, লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান করা, কারিগরি ত্রুটি সংশোধন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন করা, চার্জিং স্টেশন স্থাপন করে বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয় বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধ করা, চালকসহ সংশ্লিষ্টদের ট্রাফিক সংক্রান্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সড়কের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, চাঁদাবাজি, হয়রাণি, অবৈধ রেকারিং ও ডাম্পিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চালকদেরকে স্বস্তি দেয়া এবং প্রতিটি সড়ক মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেইন তৈরি করা, যাতে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা এড়ানো যায় ইত্যাদি দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনের খুলনা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এস এম আলমগীর হোসেন বাবু’র সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জনার্দন দত্ত নান্টুর সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, কোষাধ্যক্ষ কোহিনুর আক্তার কনা, সংগ্রাম পরিষদের খুলনা মহানগর কমিটির উপদেষ্টা সেলিম খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস আকন, মানিক মিয়া, শেখ আল মামুন, আবু সাঈদ, আজারুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক হারুনুর রশীদ, বাবুল হোসেন, শেখ লিটন, সরদার হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা কমিটির আহ্বায়ক ইউনুস আহমেদ মাসুদ, সদর থানা নেতা আব্দুল আলিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, নূর আলম, দৌলতপুর থানা নেতা শহিদুল ইসলাম, নান্টু হাওলাদার, আজগার হাওলাদার, বিপ্লব বিশ্বাস, সাহেব আলী, মোসলেম জমাদ্দার, আবুজার মোল্লা, কাঞ্চন হাওলাদার, খালিশপুর থানা নেতা শহীদুল ইসলাম, ওহিদুল, নুরুল ইসলাম, মুকুল তালুকদার, জহুরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, হালিম, সুরত আলী, সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক, ইয়াসিন হোসেন প্রমুখ।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে একটি প্রতিনিধি দল বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের মাধ্যমে চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। পরিচালক মহোদয়ের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহকারী পরিচালক জনাব উসমান সরওয়ার আলম।
অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দেশে প্রায় ৫০ লাখ চালক পরিবার এসব ব্যাটারি চালিত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহনের উপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। এসব যানবাহন তৈরি, মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশ নির্মাণ, বিক্রি, চার্জিংসহ নানা ধরনের কাজে অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। দেশের সকল জেলা ও বিভাগে নগর পরিবহণ নেই ফলে কোটি কোটি মানুষ ব্যাটারি চালিত যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। এই খাত যেমন বিপুল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব বাহন বিদ্যুতে চলে বলে পরিবেশ দূষণ কম করে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে এদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়। অথচ আপনি জানেন, এসব বাহন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, চালকেরা বিদ্যুৎ চুরি করে না বরং বর্ধিত দামে (প্রায় ২৫ টাকা ইউনিট) বিদ্যুৎ কিনে থাকে। তাই কর্মসংস্থান, জীবিকা, যাতায়াত এবং দেশের অর্থনীতির বিকাশের কথা বিবেচনা করলে এ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যে রাজস্ব ঘাটতি চলছে সেক্ষেত্রে দ্রুত নীতিমালা চূড়ান্ত করে ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত বাহনকে নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স এর আওতায় আনলে রাজস্ব খাতে কয়েক হাজার কেটি টাকার যোগান নিশ্চিত হবে। একই সাথে দেশীয় গাড়ি শিল্পে একটি বিপ্লব, কর্মসংস্থান ও শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। যেখানে শুধু প্রয়োজন হবে দুর্নীতিমুক্ত সঠিক ব্যবস্থাপনা। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে এখন এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতিতে এই খাতের উন্নতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু শ্রমজীবিদের এই ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে বিগত গণ অভ্যুত্থানের মত আবারো শ্রমজীবি মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।



