পাটকল নিউজপ্রিন্ট হার্ডবোর্ড মিল অবিলম্বে চালু না করলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে

# খালিশপুরে নাগরিক কমিটির শ্রমিক জনসভায় বক্তারা #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খালিশপুর-দৌলতপুর জুট মিলসহ ৫টি জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ, বন্ধকৃত ২৬টি পাটকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালু, উল্লিখিত পাটকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ, বন্ধকৃত খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস, হার্ডবোর্ড মিলস ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরী অবিলম্বে চালু, মাথাভারি প্রশাসন ও দুর্নীতিযুক্ত বিজেএমসির সংস্কার করাসহ তৎকালীন মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার, যে সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল লিজ দেয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন আছে সেগুলো বাতিল, ২০১০ সালের ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং এক্ট কার্যকর, কাঁচাপাট সরাসরি রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিল কর্তৃক যে সকল ফৌজদারি মামলা রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং খুলনায় আন্দোলন চলাকালীন শ্রমিক ও নাগরিক নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষি-শিল্প-পাট ও পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক কমিটি খুলনার উদ্যোগে শুক্রবার বিকেল ৪টায় খালিশপুর পিপলস গোল চত্বরে এক শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক কমিটির সভাপতি এ্যাডঃ কুদরত-ই-খুদা এবং সঞ্চালনা করেন সকমিটির সদস্য শ্রমিকনেতা মোঃ নূরুল ইসলাম। জনসভায় বক্তব্য রাখেন, নাগরিক কমিটির উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আ ফ ম মহসীন, সহ-সভাপতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এস এ রশীদ, জনার্দন দত্ত নান্টু, মুনীর চৌধুরী সোহেল, মোঃ মোজাম্মেল হক খান, নাগরিক নেতা এ্যাডঃ জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, যুগ্ম সম্পাদক কোহিনুর আক্তার কণা, দপ্তর সম্পাদক আফজাল হোসেন রাজু, সদস্য গাজী নওশের আলী, নাগরিক নেতা নিজাম উর রহমান লালু মনিরুজ্জামান রহিম, এ্যাডঃ ফজলে হালিম লিটন, শ্রমিকনেতা মোঃ অলিয়ার রহমান, মোঃ মনির হোসেন, আবদুল করিম, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, মোঃ আলমগীর কবীর, মোঃ আবদুর রাজ্জাক তালুকদার, মোঃ মোশারেফ হোসেন, নূর মোহাম্মদ, মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, শামসুজ্জোহা ডিয়ার, মোঃ জহিরুল ইসলাম, প্রমুখ। বক্তারা বলেন, গত ২ জুলাই ২০২০ তারিখে করোনা মহামারির সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলসহ সারাদেশের ২৬টি পাটকল লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারসহ পাটসংশ্লিষ্ট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। পাটকল বন্ধের ফলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে যায়। বিগত সরকার শ্রমিকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। শ্রমিকরা তখন তাদের কর্মস্থল থেকে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। দু’মুঠো খাবারের জন্য, চাকরী ফিরে পাবার আশায় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়। বক্তারা বলেন, পাটকল শ্রমিকরা আংশিক বেতন পেলেও সঠিক হিসাব অনুযায়ী সকল পাওনাদি এখনো পর্যন্ত পায়নি। এমনকি খুলনার খালিশপুর ও দৌলতপুরসহ ৫টি জুট মিলের শ্রমিকেরা এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পায়নি। বিগত সরকার নিষ্ঠুরভাবে পাটকল বন্ধ ও বকেয়া প্রদানে গড়িমসি করায় দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছেন শ্রমিকরা। বক্তারা আরো বলেন, শুধু পাটকল শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন না। বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছেন তারা বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ করেছেন। দেশি-বিদেশি গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য চক্্রান্ত করেছেন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করেননি। খুলনার খালিশপুরে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার বিখ্যাত নিউজপ্রিন্ট মিল বন্ধ করা হয়েছে ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে। এই মিল চার দশক ধরে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনান অর্জন করে। প্রতি বছরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদন হতো। অথচ বিপুল লাভজনক প্রতিষ্ঠানকে ১৯৯২ সাল থেকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছিলো। এক পর্যায়ে এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিউজপ্রিন্ট মিলের পাশাপাশি হার্ডবোর্ড মিলকেও একই ভাবে বন্ধ করা হয়। এভাবে নিঃশেষ হচ্ছে দেশের সম্পদ, লুট হচ্ছে জনগণের সম্পদ, কর্মহীন হচ্ছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। নাগরিক কমিটির নেতারা অবিলম্বে এই কলকারখানাগুলো চালু না করলে দেশ,জনগণ ও শ্রমিকদের স্বার্থে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।



