স্থানীয় সংবাদ

হেরাজ মার্কেটে পিকনিক নিয়ে বিরোধ : বিএনপি নেতার হুমকি

# বিএনপির মনিটরিং সেলে লিখিত অভিযোগ ব্যবসায়ীদের #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা ওষুধের সবচেয়ে বড় বাজার হেরাজ মার্কেটের পৃথক দুটি কমিটির পিকনিক নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জের ধরে গেল ৫ ফেব্রুয়ারি দুই ব্যবসায়ীদের দোকানে হামলা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নেতা নাজমুস সাকিব পিন্টু এ ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হেরাজ মার্কেট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিএনপির মনিটর্রিং সেলে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তারা হুমকি ও হামলার ভিডিও ফুটেজও জমা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই খুলনার ওষুধ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীদের হাতে। হেরাজ মার্কেটও ছিল শেখ বাড়ির সমর্থিতদের নিয়ন্ত্রণে। মার্কেটে বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম। গতবছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হেরাজ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে একটি গ্রুপ। তারা নগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সুজাকে সভাপতি এবং বিএনপি নেতা নাজমুস সাকিব পিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের নিয়ে কমিটি করায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নাজমুল সাকিব পিন্টুকে তখন শোকজ করা হয়েছিল। এর মধ্যে জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
এদিকে সাধারণ বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ওই কমিটি মেনে নেয়নি। হেরাজ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা পৃথক সভা ডেকে গণতান্ত্রিক ওষুধ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ নামে পৃথক ফোরাম গঠন করেন। এর আহ্বায়ক করা হয় নুরুল হক বাহারকে।
সূত্রটি জানায়, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় বনভোজনের আয়োজন করে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি। অন্যদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি জাহানাবাদ সেনানিবাসের বনবিলাস পিককর্নারে বনভোজনের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক সমিতি। ওষুধ ব্যবসায়ীদের এই পিকনিকে অর্থ সহযোগিতা দেয় ওষুধ কোম্পানিগুলো। মূলত পিকনিকের অর্থ নিয়ে ভাগবাটোয়ারার জেরে গণতান্ত্রিক ওষুধ ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় সুজা-পিন্টু গ্রুপ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তারা দলবল নিয়ে সালমা ড্রাল হাউস ও খান মুজিবর মেডিসিন কর্নারসহ অন্যান্য দোকানে উপস্থিত হয়ে ফোরামের কেমিস্টবৃন্দকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন। এমনকি মিলন মেলার ঝুলন্ত প্যানা ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সুজা, নাজমুস সাকিব পিন্টুসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মনিটরিং সেলে জমা দেওয়ার বিষয়ে সংগঠনের আহ্বায়ক নুরুল হক বাহার বলেন, কয়েকজন বিএনপি নেতার ভর করে হেরাজ মার্কেটে আওয়ামী ও ছাত্রলীগ পুনবার্সিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। এখন তারা গায়ের জোরে অন্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন বন্ধ করার পায়তারা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে বিএনপির সুনাম দারুণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের কাছে এ ঘটনার বিচার দেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button