দৌলতপুর জুট মিল পরিদর্শনে এসে বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা খুশি হতে পারলেন না

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামে অবস্থিত বন্ধথাকা সরকারি টেক্সটাইল মিল বেসরকারি খাতে লিজের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। লিজ গ্রহীতা হিসেবে ব্যবসায়ীরা সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এ সপ্তাহে আরো তিনটি মিল লিজ প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর ক্ষেত্রে কেবল হাজার কোটি টাকা লোকসান ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে ফলপ্রসূ কিছুই হয়নি। তাই সরকারের মালিকানায় থাকা জুট ও টেক্সটাইল মিলগুলো ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেওয়ায় পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে বিদ্যমান সকল পাটকল চালু রাখতে বছরে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পাটের প্রয়োজন কিন্তু দেশে পাটের উৎপাদন কেবল ১২ লাখ মেট্রিক টন। উপরন্তু সারাবিশে^ বার্ষিক পাটের উৎপাদন মাত্র ২৫ লাখ মেট্রিক টন। সেক্ষেত্রে কেবল পাট দিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠান চালু রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে পাটভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি অন্য শিল্প কারখানা স্থাপনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। উপদেষ্টা সোমবার দুপুরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের খুলনা দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফকালে একথা বলেন। বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আরও বলেন, খুলনার দৌলতপুর জুট মিলটি বেসরকারি উদ্যোগে চালু হওয়ায় প্রায় সাতশত লোকের কার্মসংস্থান হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে এখানে আরো তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এধরণের সফল উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাবে। মিলটিতে বেসরকারি উদ্যোগে জুতোর উৎপাদন চালু রাখা হলেও পাটপণ্য তেমন দেখা মিলছে না। বিষয়টি সরকারভাবে নিবে না। চুক্তি অনুযায়ী পাটপণ্য আুৎপাদনের কথা থাকিলেও তিনি জুতা তৈরীর কারখানা করেছেন। যা বিজেএমসির চুক্তির সাথে সমন্বয় হচ্ছে না। উপদেষ্টা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কারসাজির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সিন্ডিকেট সরকারের চেয়ে শক্তিশালী নয়। দেশে বিভিন্ন পণ্যের মজুদ ও সরবরাহের ওপর সরকারের নজরদারি রয়েছে। এই মুহুর্তে ভোজ্যতেলের বাজারে যে সাময়িক সংকট রয়েছে তা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে কেটে যাবে। পরিদর্শনকালে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ গোলাম রব্বানী, দৌলতপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান তানজিলা মাহমুদ, প্লাটিনাম মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ মুরাদ হোসেন, ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ কামরুল ইসলাম, খালিশপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান খলিলুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দৌলতপুর জুট মিল লিজ গ্রাহীতা বিগত ৫ আগস্টের আগে আ’লীগের কোন কেন্দ্রীয় নেতা খুলনায় আসলে তিনি মিলের সামনে বিআইডিসি সড়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বড় করে গেট তৈরী করে রাখতে আগমন কয়েক দিন আগে। নেতাদের আগমনের পরও কয়েক দিন সড়কে ওই গেট থাকতো। কিন্তু এবার পাট উপদেষ্টা তার মিলে আসলেও তিনি সে রকম কোন ব্যবস্থা করেননি। বিষয়টি নিয়ে মিলের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতে শোনা যায়। এমন কি জুট মিলে জুতার কারখানা করা নিয়ে নানা সমালোচনা চলে। তবে মিলের কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক আলী বলেন, বিগত দিনে যারা গেট করেছে তার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। উপদেষ্টা তার মিল পরিদর্শনে আসবেন সেই তথ্য তিনি অনেক দেরীতে পেয়েছেন। যার জন্য সাধ্যের মধ্য থেকে সব কিছু করেছি। বিজেএমসির সাথে যে চুক্তি হয়েছে তাতে তারা তাকে এপিশিয়েট করেছে এই উৎপাদনে। সামনে আরো উৎপাদন বাড়বে। বিগত দেড় বছর লোকসান দিয়ে তিনি কোম্পানী চালাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।



