কেসিসির স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরবাসী, বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের জন্য নিয়মিত শারীরিক কর্মকা-ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা সভা সোমবার সকালে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় খুলনায় চলমান ‘‘হেলদি সিটিস : আরবান গভর্ণন্যান্স ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে প্রাথমিকভাবে তিনটি ওয়ার্ডে এলাকাভিত্তিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল ও শারীরিক পরিশ্রমের পথে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত সমস্যাসমূহের সমাধানে করণীয় নির্ধারণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমের তালিকা প্রণয়নের পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক গৃহস্থালি পর্যায়ে উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ পাইলট কার্যক্রম এবং কমিউনিটির উদ্যোগে পরিষ্কারকৃত পুকুরসমূহ সংরক্ষণ ও সাঁতারের জন্য নিরাপদ ব্যবহার বিষয়ে এ অংশগ্রহণমূলক সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরীর ২৫, ২৬ ও ৩০নং ওয়ার্ডে চিহ্নিত হাঁটার পথ তৈরি, নারী ও বয়স্কদের হাঁটার দল গঠন, পুকুর পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত সাঁতারের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং পায়ে হাঁটার ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত সড়কবাতি, ফুটপাত দখল, রাস্তার ময়লা ও খোলা ড্রেন, ভবঘুরে কুকুরের উপদ্রব এবং নারীদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কেসিসি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এছাড়া উল্লিখিত ৩টি ওয়ার্ডের গৃহস্থালি বর্জ্য পৃথকীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত পাইলট কার্যক্রমের আওতায় নির্বাচিত বাড়ি থেকে টানা সাত দিন পচনশীল ও প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পাঠানো এবং প্রকল্পের সদস্য কর্তৃক বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য উপযুক্ত পুকুর নির্বাচন এবং জেলা ক্রীড়া অফিসের সহায়তায় শিশু-কিশোরদের সাঁতার প্রশিক্ষণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয় এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। সভায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, হেলদি সিটি প্রকল্পের আওতায় গৃহীত কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও কিছু কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোপূর্বে বাস্তবায়িত ফুটপথের উচ্চতা নির্ধারণে কিছু ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারণে এমনটি ঘটেছে। বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা সমাধানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সাথে কথা বলেই এর সমাধানের পথ খুঁজবো। তিনি বিকাশ কর্তৃক বন নির্মাণ, পুকুর সংস্কার, ঘাটলা নির্মাণসহ উত্থাপিত প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এ বিষয়ে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। কেসিসি’র প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. হুমায়ূন কবির, কেডিএর পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মিহির লাল সরদার, কুয়েটের প্রফেসর তুষার কান্তি রায়, খুলনা ওয়াসা, ওজোপাডিকো, ফায়ার সার্ভিস ও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হেলদি সিটি ফোরামের সদস্য এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় পুকুর সংরক্ষণ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মতামত উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ ডিসিপ্লিনের ড. মো. সানাউল ইসলাম এবং হেলদি সিটি প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ আহমেদ।



